ইসলামের ইতিহাসে মহামারি ও প্রতিরোধ-ব্যবস্থা

16

ফিচার ডেস্ক: পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষ বারবার মহামারির কবলে পড়েছে। গবেষকরা বলে থাকেন, প্রতি শত বছরে পৃথিবী একবার মহামারির কবলে পড়ে। পৃথিবীর চেহারা বদলে যায়। পৃথিবীর ইতিহাসে কখনও কখনও মহামারি একটি গোটা সভ্যতা বা জনগোষ্ঠীকেও নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। প্লেগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষ্মা, কলেরা, গুটিবসন্তসহ অনেক রকম মহামারির মোকাবিলাই মানুষকে করতে হয়েছে। দেড় হাজার বছরের ধর্ম হিসেবে ইসলাম ও মুসলমানরাও অনেক মহামারির মুখোমুখি হয়েছে এবং এর প্রতিরোধ ব্যবস্থায় দৃষ্টান্ত রেখে গেছে। রাসুল (সা.)-এর যুগে আরবে কোনও মহামারি দেখা দেয়নি। তবু এ সম্পর্কে রাসুল (সা.)-এর স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি কোনও অঞ্চলে প্লেগের প্রাদুর্ভাবের কথা শুনলে ওই শহরে প্রবেশ করবে না। কোনও শহরে থাকা অবস্থায় সেখানে প্লেগ ছড়িয়ে পড়লে ওই শহর থেকে বের হবে না।

(সহিহ বুখারি)আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার পর প্লেগ উপদ্রুত অঞ্চল থেকে বের হতে নিষেধ করে একে আল্লাহর নির্ধারণ বা তাকদির থেকে পালানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেন সে আরও অনেকের রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ না হয়। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে মহামারি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি ইরশাদ করেছেন, এটা একটা আজাব। আল্লাহ তাআলা যাদের কাছে ইচ্ছা প্রেরণ করেন। আল্লাহ মুমিনদের জন্য এটাকে রহমত বানিয়েছেন। তাই কেউ মহামারিতে আক্রান্ত হলে সে যদি ধৈর্যধারণ করে, সওয়াবের আশা করে নিজের এলাকায় অবস্থান করে এবং এই বিশ্বাস রাখে যে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাই হবে, তাহলে সে শাহাদাতবরণকারীর সওয়াব লাভ করবে। (সহিহ বুখারি)

করোনা মহামারি প্রতিরোধে বর্তমান বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের গ্রহণ করা কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনার সঙ্গে মিলে যায়। তবে হাদিসে মহামারি উপদ্রুত অঞ্চল থেকে বের হতে নিষেধ করা হলেও নিজের বাড়িতে অবস্থান করতে হবে এরকম কিছু বলা হয়নি। বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা ও তাকদিরের ওপর সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ থেকে বোঝা যায় এ রকম ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তার বেশি কিছু হবে না।এছাড়া যেকোনও ধরনের সংক্রামক রোগ সম্পর্কে রাসুল (সা.)-এর বক্তব্য পাওয়া যায়। রাসুল (সা.) সংক্রমিত পশুকে সুস্থ পশু থেকে দূরে রাখতে বলেছেন। কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তার এসব নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, রোগাক্রান্ত ব্যক্তি থেকে রোগ ছড়ানোর ব্যাপারটি সত্য ও বাস্তব। সংক্রামক রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে সাবধানতা তকদির বা আল্লাহর নির্ধারণের ওপর বিশ্বাস রাখার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পাশাপাশি সাবধানতাও অবলম্বন করা উচিত তা-ই বোঝা যায় এসব হাদিস থেকে।

সাহাবিরা সরাসরি মহামারির সম্মুখীন হয়েছেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর খেলাফতকালে ১৮ হিজরি মোতাবেক ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে। ওমর (রা.) সিরিয়ার উদ্দেশে সফরে বের হয়ে জানতে পারেন সিরিয়ায় প্লেগ দেখা দিয়েছে। তিনি তখন সাহাবিদের পরামর্শে সিরিয়ায় যাওয়া থেকে বিরত থাকেন। ওমরের যুগে গ্রহণ করা এসব সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয় মুসলমানদের কাছে। এসব সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ সাহাবির ইজমা বা ঐকমত্য হিসেবে দেখা হয়।

সহিহ বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত আছে, “ওমর (রা.) শামের দিকে রওনা হয়ে ‘সারগ’ পর্যন্ত পৌঁছলে ‘আজনাদ’ অধিবাসীদের প্রতিনিধি ও অধিনায়ক আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.) ও তার সহযোদ্ধারা ওমরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তাকে জানালেন যে শামে মহামারি দেখা দিয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, তখন ওমর (রা.) বললেন, প্রাথমিক যুগের মুহাজিরদের আমার কাছে ডেকে আনো। আমি তাদের ডেকে আনলে তিনি মহামারি উপদ্রুত শামে যাবেন নাকি যাত্রা স্থগিত করবেন এ বিষয়ে তাদের পরামর্শ চাইলেন। তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লেন। কেউ কেউ বললেন, আপনি একটা বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না। কেউ কেউ বললেন, আপনার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবীণ সাহাবিগণ রয়েছেন। আমরা তাদের এই মহামারির মুখে ঠেলে দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে করি না।

ওমর তাদের কথা শুনে আনুসারীদের ডেকে আনতে বললেন। আমি আনসারী সাহাবিদের ডেকে আনলে তিনি তাদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তারাও দ্বিধাবিভক্ত মত দিলেন। এরপর ওমর বললেন, মক্কা বিজয়ের আগে হিজরতকারী কুরাইশের প্রবীণ সাহাবি যারা এখানে রয়েছেন, তাদের আমার কাছে ডেকে আনো। আমি তাদের ডেকে আনলাম। তাদের সবাই একমত হয়ে বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাদের এই মহামারির মুখে ঠেলে দেবেন না। এ বিষয়ে তাদের কেউ অন্য কোনও মত দিলেন না।

তখন ওমর (রা.) ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.) বললেন, আপনি কি আল্লাহর তাকদির বা নির্ধারণ থেকে পালাচ্ছেন? তখন ওমর (রা.) বললেন, হে আবু উবায়দা! তুমি ছাড়া অন্য কেউ যদি এ কথা বলতো! হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর একটি তাকদির থেকে আল্লাহরই আরেকটি তাকদিরের দিকে পালাচ্ছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় গিয়ে দেখো যে দুটি মাঠ রয়েছে, একটি সবুজ শ্যামল, অপরটি ঘাসশূন্য, বিরান। সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে উট চরাও, তাহলে সেটা আল্লাহর নির্ধারিত, আর তৃণশূন্য প্রান্তরে চরালে তাও আল্লাহর নির্ধারিত।

বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় আবদুর রাহমান ইবনে আওফ (রা.) এলেন, তিনি এতক্ষণ তার কোনও প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এ বিষয়ে রাসুল (সা.)-এর বক্তব্য আমার জানা আছে। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোনও এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংবাদ পাও, তাহলে দুঃসাহস দেখিয়ে এগিয়ে যাবা না। আর যখন কোনও দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় যদি মহামারি দেখা দেয়, তখন তা থেকে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। রাবি বলেন, তখন ওমর (রা.) আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তারপর যাত্রা স্থগিত করে ফিরে চললেন।”

তবে কোনও কোনও সাহাবি মহামারি থেকে বাঁচার জন্য সাবধানতা অবলম্বনের বিরোধী ছিলেন। তারা মহামারিকে আল্লাহর রহমত ও আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে ছিলেন। সাবধানতা অবলম্বনকে তারা আল্লাহর তাকদির থেকে পালিয়ে বেড়ানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেমন আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ (রা.) ওমরের সামনে বলেছিলেন। ঐতিহাসিক তাবাবি (রহ.) বর্ণনা করেন, যখন মহামারি ছড়িয়ে পড়লো, আবু ওবায়দা সেনাবাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বললেন, এই মহামারি তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমত। তোমাদের নবী তোমাদের ডাকছেন। এই রোগে তোমাদের নেক ব্যক্তিদের মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর কাছে চাই আল্লাহ আমাকেও এই রহমত দান করুন। এরপর প্লেগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হলো এবং মুআয ইবনে জাবাল তার স্থলাভিষিক্ত হলেন। তিনি সেনাবাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বললেন, এই মহামারি তোমাদের ওপর আল্লাহর রহমত। তোমাদের নবী তোমাদের ডাকছেন। এই রোগে তোমাদের নেক ব্যক্তিদের মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর কাছে চাই আল্লাহ আমার পরিবারের ওপর এই রহমত বর্ষণ করুন। এই দোয়ার পর তার ছেলে আব্দুর রহমান প্লেগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে নিজের জন্যও এই রহমত চাইলেন। তার হাতেও প্লেগের ফোড়া উঠলো। তিনি এটা দেখে বললেন, দুনিয়ার কোনও কিছুই আমার কাছে এর মতো প্রিয় নয়। দুনিয়ার কোনও কিছুর বিনিময়েই এই নেয়ামত ত্যাগ করতে আমি রাজি হবো না। তার মৃত্যুর পর আমর ইবনুল আস তার স্থলাভিষিক্ত হলেন। তিনি সেনাবাহিনীর উদ্দেশে বললেন, মহামারি আগুনের মতো প্রজ্বলিত হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে। তোমরা পাহাড়ে উঠে এই আগুন থেকে আত্মরক্ষা করো। খলিফা ওমর (রা.) আমর ইবনুল আস (রা.)-এর এই চিন্তা ও কর্মপদ্ধতির কথা শুনে তা পছন্দ করলেন এবং তার প্রশংসা করলেন।

এই বর্ণনাগুলো থেকে বোঝা যায়, কারও কারও দ্বিমত থাকলেও সাহাবিদের বড় অংশই ছিলেন সাবধানতা অবলম্বনের পক্ষে।ওমরের শাসনকালে ছড়িয়ে পড়া প্লেগ মহামারিতে প্রায় আড়াই হাজার সাহাবিসহ বিশ হাজার মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছিলেন। সাহাবিদের পরে বিভিন্ন সময় মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে মহামারি দেখা দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মুসলমান মহামারিতে প্রাণ হারিয়েছেন। ৩৯৫ হিজরিতে তিউনিশিয়ায় মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। ওই সময় দ্রব্যমূল্য অনেক বেড়ে গিয়েছিল, মানুষ দরিদ্র ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল এবং মসজিদগুলো মুসল্লির অভাবে বিরান হয়ে পড়েছিল, এ রকম বর্ণনা পাওয়া যায়।হিজরি পঞ্চম শতকের মধ্যভাগে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল। ৪৪৮ হিজরির মহামারি উপদ্রুত স্পেন এবং ৪৪৯ হিজরির মা-ওয়ারা-উন-নাহারের মহামারির কিছু চিত্র পাওয়া যায় লেখক ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনায়।প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ইমাম জাহাবি (রহ.) ‘তারিখুল ইসলাম’ গ্রন্থে লিখেছেন, “আন্দালুসে ৪৪৮ হিজরিতে কঠিন দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেখা দিয়েছিল। বহু মানুষ মহামারিতে মারা গিয়েছিল। গ্রানাডার মসজিদগুলো মুসল্লি না থাকায় বন্ধ ছিল দিনের পর দিন।”

আল্লামা ইবনুল জাওজি (রহ.) ‘আল মুনতাযাম ফি তারিখিল মুলুকি ওয়াল উমাম’ গ্রন্থে লিখেছেন, “৪৪৯ হিজরির জুমাদাল উখরায় মা-ওয়ারা-উন-নাহারে (রাশিয়ার ফারগানা, আসিজান, শাশ, সমরকন্দ, বুখারা, ফারাব, তিরমিয, নাসাফ, কাশগর ও খাওয়ারেযম এলাকাগুলোকে একসঙ্গে মা-ওয়ারা-উন নাহার বলা হতো) ব্যাপক মহামারি দেখা দেয়। প্রতিদিন ওই অঞ্চলে আনুমানিক ১৮ হাজার মানুষ মারা যায়। মানুষের রাত দিন কাটে মৃতদের গোসল ও দাফনের ব্যবস্থা করতে করতে। বেশিরভাগ মসজিদ মুসল্লিশূন্য হয়ে বন্ধ থাকে।”

৮২৭ হিজরিতে পবিত্র নগরী মক্কায় মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল। হাফেযুল হাদিস ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) তার লিখিত গ্রন্থ ‘ইনবাউল গুমুরি ফি আনবাইল উমুরি’-তে মক্কার ওই মহামারির বর্ণনা দিয়েছেন, “৮২৭ হিজরির শুরুতে মক্কায় মহামারি দেখা দেয়। প্রতিদিন ৪০-এরও বেশি লোক মারা যায়। শুধু রবিউল আউয়াল মাসে প্রায় ১৭ শত মানুষ মারা যায়। শুনেছি মহামারির প্রকোপ এতই বেড়েছিল যে, মসজিদুল হারামে মাকামে ইবরাহিমের সামনে দুই জন মুসল্লি নিয়ে শুধু একটি জামাত অনুষ্ঠিত হতো। মুসল্লির অভাবে অন্য কোনও জামাত অনুষ্ঠিত হতো না।”

ওই সময় মসজিদুল হারামে বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারী মুসল্লিদের পৃথক পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হতো। ইবনে হাজারের বর্ণনা অনুযায়ী, মহামারির কারণে একটি ছাড়া বাকি সবগুলো জামাত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই একটি জামাতেও দুই/তিন জনের বেশি মানুষ হতো না।গত বছর থেকে আমরাও পৃথিবীজুড়ে প্রায় একই রকম চিত্র দেখতে পাচ্ছি। মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববীসহ মুসলমানদের বেশিরভাগ মসজিদ দীর্ঘদিন মুসল্লিশূন্য হয়ে বন্ধ থেকেছে বা স্বল্প মুসল্লি নিয়ে জামাত চালু রেখেছে। গত বছর সৌদি আরবের বাইরে থেকে কেউ হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার সুযোগ পায়নি। এখনও হজ, ওমরা বা জিয়ারতের সুযোগ আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের দেশে গত কিছু দিন ধরে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় আবার মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা ও সাহাবায়ে কেরামের গৃহীত কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে মনে বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তা-ই হবে। পাশাপাশি যথাসম্ভব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।