উপকূলীয় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

0

মাসুম, প্রতাপনগর,আশাশুনি,প্রতিনিধি : প্রতাপনগরে দ্রুত স্থায়ী বেড়ীবাধ নির্মাণ ও জলবায়ু উদ্বাস্তুদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে উপকূলীয় শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ১২ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে দশটায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ২০২০ সালের ২০ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। ৭১১ কিলোমিটার উপকূলের বিভিন্ন জায়গায় জোয়ারের পানি বাঁধ ওভার ফ্লো হয়ে ভেঙে প্লাবিত হয় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঘরবাড়ি। ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয় সমগ্র উপকূল।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া উপকূলের একটি ইউনিয়ন প্রতাপনগর। এখানে ৫ টি পয়েন্ট দিয়ে জোয়ারের পানি বাঁধ ওভার ফ্লো হয়ে ভেঙে প্লাবিত হয় ১০ গ্রামের ৮০ হাজার মানুষ। প্রথমে সেচ্ছাশ্রমে পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ৯ মাসের প্রেচেষ্টায় কেয়ার নির্মানের মাধ্যমে জোয়ার ভাটা মুক্ত হয়। এর তিন মাস পরে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় “ইয়াস”। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি করা কেয়ার আবারও ওভার ফ্লো হয় সীমাহীন দূর্ণিতি ও ব্যর্থতার ফলে। আজও জোয়ার ভাটার সাথে বসবাস করছে হাজার হাজার মানুষ। স্থায়ী ভেড়িবাঁধ নির্মাণে আজও কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও ইয়াসের ফলে লোকালয়ে খাল উঠে বসতবাড়ি হারিয়ে প্রায় শতাধিক পরিবার উদ্বাস্তু হয়ে বাঁধের উপর বসবাস করে আসছে দুই বছর। তাদের কাছে উল্ল্যেখযোগ্য কোন সরকারি সহায়তা বা ক্ষতিপূরণ কিংবা পূর্ণবাসনের আশ্বাস পৌছায়নি।

এ সকল বিষয় তুলে ধরে দ্রুত সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নে জোয়ার ভাটা মুক্ত করে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পূর্নবাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপকূলীয় শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থায়ী বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে দ্রুত জোয়ার ভাটা বন্ধ করা এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু দের পুর্নবাসনের দাবি তুলে ধরেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুজাইফা আল- আমিনের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হিজবুল্লাহ শরিফ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। নাসির মাহমুদ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। মিয়ারাজ, বুশরা ম্যাটস সাতক্ষীরা। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মুহাম্মদ আলী সুজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নাছির উদ্দীন, দৈনিক ভোরের কাগজের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি মশিউর রহমান ফিরোজ, দৈনিক দৃষ্টিপাতের স্টাপ রিপোটার মীর আবু বক্কর, বাংলাদেশ দূতাবাস কাতার এর সাবেক আইন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জর্জ কোটের আইনজীবী আসাদুল্লাহ আসাদ, বক্তারা বলেন – দেশ উন্নায়নের মহাসড়কে। কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট হচ্ছে কিন্তু উপকূলের মানুষের জন্য স্থায়ী একটি বাঁধ হচ্ছে না।

শতশত মানুষ নদীর জোয়ার-ভাটার স্রোতে বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে কিন্তু ক্ষতিপূরণ বা পূর্নবাসনের আশ্বাসটুকু তাদের কাছে পৌছায়নি। এভাবে একটি সমাজ চলতে পারে না। বক্তারা বলেন বাঁধ নিয়ে এই যে সংকট তার মূল কারণ ত্রিমুখী সিন্ডিকেট। উপকূলের বাঁধ নির্মানের পূর্বে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে নতুবা বাজেটের পর বাজেট হবে কিন্তু বেড়িবাঁধ উচু হবে না। তাই জেলা প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা। এছাড়া মানববন্ধনে সংহতি জানিয়েছেন উপকূলীয় নাগরিক সংগঠন “বাঁচাও উপকূল” সংগঠনের পক্ষে কথা বলেন সহ সমন্বয়ক মাসুম বিল্লাহ, আরও কথা বলেন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সাতক্ষীরা জেলার আহবায়ক জামসেদ হাসান জিকু।