ভাটার তোড়ে নদীগর্ভে বিধ্বস্ত মসজিদ ! অশ্রুজলে মুসুল্লিদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

0

মাসুম, প্রতাপনগর,আশাশুনি,প্রতিনিধিঃ খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার

ভাটার তোড়ে নদীগর্ভে বিধ্বস্ত মসজিদ ! অশ্রুজলে মুসুল্লিদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। ভাসমান মসজিদে জুমার নামাজ আদায়। গতকাল ফজর নামাযের পর প্রতাপনগর হাওলাদার বাড়ি বায়তুন নূর জামে মসজিদটি অল্প সময়ের ব্যবধানে চোঁখের পলকে পলকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ধ্বংস স্তুপে পরিনত হয়েছে।

যখন মসজিদটি থেমে থেমে নদীগর্ভে ভাঙ্গনে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়েছিল তখন স্থানীয় মুসুল্লিদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ অশ্রুজলে ডুডরে ডুগরে কাঁদছিল।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষেরা ভাঙ্গনে বিধ্বস্ত মসজিদ টি দেখতে আসে এবং শুধুই আফসোস করতে করতে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। উল্লেখ্য বিগত বছরের ২০ মে মহা প্রলয়ঙ্কারী জ্বলোচ্ছাস ঘুর্নিঝড় আম্ফানের সময় সৃষ্ট বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের ফলে বন্যতলা গ্রামের বেড়িবাঁধ ভাঙ্গনে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটায় নিমজ্জিত প্রতাপনগর ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

টিকে থাকার লড়াইয়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিকল্প রিং বাঁধের মাধ্যমে সত্তর ভাগ এলাকা জোয়ার ভাটা থেকে মুক্ত করতে দফায় দফায় রি বাঁধের কাজ চলছে। দুর্ভাগ্য গত ১০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমা নামাজের সময় প্রতাপনগর মানিক হাওলাদারের বাড়ির সামনে থেকে বিকল্প রিং বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

এতে করে প্রতাপনগর হাওলাদার বাড়ি বাইতুন নূর জামে মসজিদটি পানিতে ডুবে যায়। মসজিদের পাশ দিয়ে খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটার পানি ওঠানামা করায় গভীর খালের সৃষ্টি হয়। এভাবে কিছু দিন আগে মসজিদটির বারান্দার নিচ থেকে মাটি ধসে বারান্দা ভেঙ্গে পড়ে। এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় মসজিদের উঁচু মিনারটি ভেঙ্গে পড়ে। ধীরে ধীরে মূল প্রার্থনা কক্ষের নিচ থেকে আস্তে আস্তে করে মাটি সরতে থাকে।

এক পর্যায়ে মসজিদটি দক্ষিণ কোনে হেলে পড়ে। নদীর জোয়ার ভাটার স্রোতের তীব্রতায় খালের পরিধি বাড়তে থাকায় ৮ অক্টোবর শুক্রবার সকালে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে যায়। মসজিদের ইমাম হাফেজ মইনূর রহমান জানান, ফজর নামাজের পরে ভাটার পানি টানতে শুরু করে। এ সময় মসজিদের বিভিন্ন অংশের টাইলস ও কংক্রিট ঢালাই খুলে খুলে পড়তে থাকে।

যতই ভাটা টানতে থাকে মসজিদটি ততই হেলে পড়তে থাকে। ভাটার স্রোতে মসজিদের নিচের মাটি সম্পূর্ণ সরে গেলে হঠাৎ বিকট শব্দে মসজিদের ছাদ ভেঙে পড়ে যায়। তখন আমরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। মসজিদের মুসুল্লি অনেকে বলেন, শুক্রবার ফজরের নামাজের পর মসজিদটি আস্তে আস্তে করে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে। হঠাৎ করে প্রচন্ড শব্দ হয়। তাকিয়ে দেখি মসজিদের ছাদ ভেঙে পড়েছে। উল্লেখ্য মসজিদটি পানিতে ডুবে যাওয়া ও ইমাম সাঁতরিয়ে আযান নামাজ আদায় করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ভাইরাল হয়।

উক্ত নিউজ দেখে সামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন মাধ্যমে বিধ্বস্ত মসজিদ কমিটির কাছে গত ৫ অক্টোবর নৌকার একটি ভাসমান মসজিদ মুসুল্লিদের নামাজের জন্য দেওয়া হয়েছে। সেই ভাসমান মসজিদটিতে গতকাল শুক্রবার জুমা নামাজ আদায় করা হয়েছে। সার্বিক দুরাবস্থা উত্তরণে মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে মাননীয় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা সময়ের দাবি।