মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার দাবি অসহায় উপকূলীয় মানুষের

8
মাসুম, প্রতাপনগর,আশাশুনি, প্রতিনিধি : প্লাবিত প্রতাপনগরের দুর্গত মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগী অসহায় উপকূলীয় বানভাসি মানুষের। প্লাবিত প্রতাপনগর ইউনিয়নের মানুষের দুঃখ দুর্ভোগ দুর্দশার চিত্র এখন চরম খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অজানা গন্তব্যের দিকে চলেগেগে অনেক পরিবার। এছাড়া বাব দাদার রেখে যাওয়া বসত ভিটা ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে উদ্বাস্তু হয়ে সীমাহীন অসহায় মানবতার জীবন যাপন করছে অনেক পরিবার। উপায়ান্ত না পেয়ে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে মানুষ বেঁচে আছে দুঃখ কষ্টে। অনেক পরিবার বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধে ও সংসার জীবন পরিচালনার প্রধান আয়ের উৎস মাছ ধরার নৌকায় বসবাস করছে অসহায় অনেক পরিবার। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া পরিবারগুলো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাকা ভবনে আশ্রয় নিলেও আশ্রয় শিবিরে অবস্থান নেওয়া অসহায় মানুষের দুঃখ দুর্ভোগ দুর্দশার কথা জানতে আসেনি উর্দ্ধতন জনপ্রতিনিধি সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।‌ এ যেন দুর্গত মানুষের দুঃখ দুর্ভোগ দুর্দশার কথা শোনার কেউ নেই। প্লাবিত প্রতাপনগরের অবস্থা এমন ই যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে হলে নৌকা বা কুথাও গলা, কুথাও বুক, কোথাও কোমর, কুথাও হাটু সময় কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর লবণাক্ত বিষাক্ত পানি মাড়িয়ে যেতে হবে। প্লাবিত প্রতাপনগরের রাস্তায় রাস্তায় ধরছে মাছ ! চলাচলে নৌকায় ভরসা তাদের আজ। ইতোমধ্যে গ্রামের ভিতরের ছোট ছোট রাস্তাগুলো বিধ্বস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার প্রেক্ষিতে নৌকায় চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যেসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতাপনগরের প্রাণ কেন্দ্র তালতলা বাজারে আসতে নৌকা ই চলাচলের বাহন হিসাবে যাতায়াত করতে দেখা। গত ২৬ মে ঘুর্নিঝড় ইয়াস-যশ প্রভাবে নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ঝড়োহাওয়া দুপুরের জোয়ারে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর তুফানের আঘাতে আঘাতে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ প্রতাপনগর অঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আজ পানি বন্দি অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগ ও  মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিশেষ করে রান্না খাওয়া, দৈনন্দিন প্রাকৃতিক কাজ, সর্বোপরি দুর্বিষহ জীবনের অন্ত নেই। বর্তমানে অত্র ইউনিয়নের হরিশ খালির দুটি ভাঙ্গন পয়েন্ট ও শ্রীপুর কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চ ঘাটের দক্ষিণ অংশের দুটি ভাঙ্গন পয়েন্ট ও প্রতাপনগর সংলগ্ন পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বন্যতলা গ্রামের একটি ভাঙ্গন পয়েন্ট দিয়ে প্রতাপনগর ও বন্যতলায় নিয়মিত ভাবে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর জোয়ার ভাটা বয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে হরিশ খালির দক্ষিণ পশ্চিম অংশের ভাঙ্গন পয়েন্ট ভাঙ্গন রোধে বাঁধ আটকাতে ঠিকাদার শাহিনুর রহমান বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করলেও অন্যান্য ভাঙ্গন পয়েন্ট ভাঙ্গন রোধে বেড়িবাঁধে কাজের কোন সূচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এহেন পরিস্থিতিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা প্লাবিত প্রতাপনগরের দুর্গত মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগী অসহায় উপকূলীয় বানভাসি মানুষের।