স্বপ্ন পূরণের আগেই বিদায় নিলেন সপ্নবাজ

5

মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। এই কথার যথার্থতা প্রমাণ করেছিলেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের ছোট্ট জেলা সাতক্ষীরার একজন উদ্যোক্তা। ‘জিরো থেকে হিরো’ বলতে যা বোঝায় ঠিক সে রকম একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তার গল্প বলতে যাচ্ছি আপনাদের।
সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় প্রথম আধুনিক রিসোর্ট নির্মাণ করেছিলেন তিনি। আবাসিক জলযানে সুন্দরবন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিতে এখন সেই বরসা রিসোর্টের সুবাদে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ঘুরতে আসেন অনেক পর্যটক। একজন আনিছুর রহমানের চেষ্টায় বদলে গিয়েছিল অবহেলিত সাতক্ষীরার পর্যটন শিল্প। সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ পর্যটন বান্ধব করতে অবদান রেখেছেন আনিছুর রহমান।

শুধু তাই নয়, সাতক্ষীরাবাসীকে আধুনিক মানের সেবা দিতে আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা শহরের প্রথম আধুনিক শপিং মল, ‘চায়না বাংলা শপিং কমপ্লেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্যবসা সফল এই প্রতিষ্ঠানটি চালুর পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

প্রথমে ‘বরসা’ এনজিও দিয়ে শুরু, এরপর একজন উদ্যোক্তা থেকে একে একে প্রতিষ্ঠা করেন চায়না বাংলা ফুডস, দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সর্বাধুনিক বে-সরকারি হাসপাতাল সিবি হাসপাতাল, দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরাসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকুরির সুযোগ হয়েছে জেলার শত শত বেকার যুবকের। চমকে দেওয়া এই উত্থানের পেছনে রয়েছে আনিছুর রহমানের শ্রম, সততা, নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রæতি রক্ষার বৈশিষ্ট্য।

আধুনিক সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখতেন, দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার সম্পাদক ও প্রকাশক এ কে এম আনিছুর রহমান। ছিলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। জেলার ক্রীড়াঙ্গনে রেখেছেন অনেক অবদান। এলাকার এতিম শিশুদের জন্য একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালনা করতেন তিনি। পাশাপাশি জেলার অনেক মসজিদ, মাদ্রাসা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। তার স্বপ্ন ছিল সাতক্ষীরায় আধুনিক মানের স্কুল ও বে-সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার। তবে সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সবাইকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন সপ্নবাজ।

বৃহস্পতিবার (১৬ডিসেম্বর) বেলা ১টার সময় দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

মানুষ মাত্রই ভুল করে। জীবন চলার পথে তারও কিছু ভুল সীদ্ধান্ত ছিল। তবে ভুলের আগুনে পুড়েই তিনি সঠিক বিষয়টা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। দোষে-গুনে মানুষ। দোষের চেয়ে তার গুনটাই বেশি ছিল। এই বিদায়ের সময় সে বিষয়ে আর না বলি।

আমি একজন ক্ষুদ্র সংবাদ কর্মী তার প্রতিষ্ঠিত দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর চাকরি করেছি। এই সময়ে তিনি কখনো আমাদের কারো সাথে খারাপ আচরণ করেননি। কোন প্রকার হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতার সুযোগ দিয়েছেন। পত্রিকার সব কর্মীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত সঠিক সময়ে পরিশোধ করেছেন। মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন।

আহসানুর রহমান রাজীব
সাবেক সহকারী সম্পাদক
দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা।