সাতক্ষীরায় কৃষকদের মাঝে বিনামূলে সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প বিতরণ

10

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরায় ঘেরের বাঁধের মাটির ক্ষয়সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির বিষয় বিবেচনা করে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) এর আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূলে সৌরশক্তি চালিত পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা এলাকায় এক অনুষ্ঠানে ঘেরের বাঁধে সবজি আবাদকারী ত্রিশজন কৃষকের মাঝে ছয়টি সৌরশক্তি চালিত পাম্প বিতরণ করা হয়।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, বিনেরপোতা, সাতক্ষীরার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মোশাররফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই পাম্প বিতরণ করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ, গাজীপুর, ড. দিলীপ কুমার রায় এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আএআরএস, যশোর এর মোঃ রোকনুজ্জামান।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় ফসল উৎপাদনের বহুবিধ সমস্যার মধ্যে লবণাক্ত মাটি ও পানি অন্যতম। ফসল উৎপাদনের অন্যতম নিয়ামক উপযুক্ত সেচের পানির অভাবে এ অঞ্চলসমুহে ফসলের বৈচিত্র্য খুবই কম। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা সমূহের মধ্যে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ অন্যতম। এখানকার অধিকাংশ এলাকা নীচু হওয়ায় যথাসময়ে মাটিতে ‘জো’ না আসার কারণে সবজিসহ অন্যান্য রবি ফসল আবাদের সুযোগ খুবই কম। আর এজন্যই এ এলাকার অধিকাংশ জমি মাছের ঘেরে পরিণত হয়েছে, যেখানে লবণাক্ত পানিতে গলদা, বাগদা ও অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছ চাষ করা হয়। কিন্তু এখানে ঘেরের উঁচু বাঁধে সবজি চাষ করে এলাকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী এলাকায় রপ্তানীর সুযোগ রয়েছে। উপরন্তু এ সময়ে অর্থ্যাৎ রবি মৌসুমে বৃষ্টির স্বাদু পানি ঘেরে সঞ্চিত থাকায় সেচ প্রদান করে অধিক ফসল ফলানো সম্ভব। কিন্তু ঘেরে বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় কৃষকরা সাধারণতঃ ডিজেল চালিত তিন ইঞ্চি বোরিং পাম্পের মাধ্যমে ফিতা পাইপ দ্বারা সেচ দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পানির প্রবাহের গতি অধিক থাকায় ঘেরের মাটির ক্ষয়সহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।কৃষকদের এ সমস্যার বিষয়টি বিবেচনা করে স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্টের আওতায় ঘেরের বাঁধে সবজি আবাদকারী ত্রিশজন কৃষকের মাঝে বিনামূলে ছয়টি সৌরশক্তি চালিত পাম্প বিতরণ করা হলো। এই পাম্পের সাহায্যে পৌনে এক ইঞ্চি নির্গমন পাইপের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ৪০/৫০ লিটার পানি সরবরাহ করা যায়, যা ঘেরের বাঁধের মাটি ক্ষয়ে কোন প্রভাব ফেলবে না ও ফসলের কোন ক্ষতি হবে না। উপরন্তু বিনা খরচে সেচ প্রদানের কারণে কৃষকদের ফসলের ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি উপার্জনও বৃদ্ধি পাবে।

প্রসঙ্গতঃ এসএসিপি প্রকল্পের বারি অঙ্গের কম্পোনেন্ট কো-অর্ডিনেটর ও বীজ প্রযুক্তি বিভাগ, বিএআরআই, গাজীপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. অপূর্ব কান্তি চৌধুরী সম্প্রতি কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা এলাকায় ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ পরিদর্শনকালে কৃষকদের সেচের এই সমস্যার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে সৌরশক্তি চালিত সেচ ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নেন এবং তারই পদক্ষেপের ফসল এই সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প। অনুষ্ঠানে কৃষকদেরকে এ পাম্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ড. দিলীপ কুমার রায়। বিস্তারিত আসছে…..