দেবহাটায় হাট-বাজারের দরপত্র দাখিলে অনিয়ম, রাতেও সিডিউল বিক্রির অভিযোগ

7

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার হাট-বাজার ইজারা প্রক্রিয়ার সখিপুর বাজারের দরপত্র বেচাকেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় বুধবার দরপত্র দাখিল চলাকালীন মোমিনুর রহমান নামের সখিপুর বাজারের একজন দরদাতা দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সখিপুর বাজারের দাখিলকৃত দরপত্রের বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার। তাছাড়া দরপত্র দাখিল শেষে যাচাই বাছাইকালে হাট-বাজার ইজারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন অনুপস্থিত, আবার অনেকেই প্রতিনিধি পাঠিয়ে দায় সেরেছেন বলেও অভিযোগ একাধিক দরদাতাদের। তবে কেবলমাত্র দেবহাটা থানা থেকে বিক্রিত সখিপুর বাজারের দুটি সিডিউলে অনিয়ম থাকলেও, অন্যান্য বাজারের দরপত্র দাখিল প্রক্রিয়ায় তেমন কোন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
মোমিনুর রহমানের দায়েরকৃত অভিযোগে জানা গেছে, গত রবিবার সাতক্ষীরার দৈনিক কালের চিত্র ও জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের হাট-বাজার ইজারা বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক মঙ্গলবার অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে (সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, দেবহাটা এসিল্যান্ড অফিস, দেবহাটা থানা ও সোনালী ব্যাংক দেবহাটা শাখা থেকে নির্ধারিত মুল্যে ১৩টি বাজারের দরপত্র বেচাকেনার সময় নির্ধারিত ছিল। বিকাল ৫টার পর থানা কতৃপক্ষ তাৎক্ষনিক ভাবে কোন সিডিউল বিক্রির তথ্য উপজেলা প্রশাসনকে জানায়নি। অথচ সময়সীমা শেষ হলেও রাতে দেবহাটা থানা থেকে সখিপুর বাজারের দুটি সিডিউল উচ্চ মুল্য দিয়ে কিনে আবার নিজেই সেই তথ্য ফাঁস করে ফেলে পারুলিয়ার খেজুরবাড়িয়া গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী। বুধবার দরপত্র দাখিল শুরুর আগ মুহুর্তেই আকর্ষিক দুটি সিডিউল বিক্রির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানায় থানা কতৃপক্ষ। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুপস্থিতে তারই কার্যালয়ে ১৩ টি বাজারের দরপত্র দাখিল শুরু হলে আচমকা নির্দেশনা লংঘন করে ইয়াছিন আলীর কেনা অবৈধ সিডিউল দুটি (দেবহাটা থানার সিডিউল নং- ০১ ও ০২) সখিপুরের সালামতুল্যা গাজী ও নারিকেলী গ্রামের আব্দুল ওহাব টেন্ডার বক্সে দাখিল করে। এসময় সখিপুর বাজারের দরপত্র দাখিল প্রক্রিয়ার সুষ্ঠতা নিয়ে উপস্থিত দরদাতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তাৎক্ষনিক মুঠোফোনে সিডিউল বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়ে অবিহিতসহ অপর দরদাতা মোমিনুর রহমান লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন। এমনকি দেবহাটা থানার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ চেক করলেও, নির্ধারিত সময় শেষে সিডিউল দুটি বিক্রির সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন মোমিনুর রহমান।
অনিয়মের বিষয়ে দেবহাটা থানার সিডিউল বিক্রির দায়িত্বরত সেকেন্ড অফিসার এসআই নয়ন চৌধুরী, রাতে ইয়াছিনের কাছ থেকে সিডিউল বিক্রির কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে সিডিউল বিক্রির নির্দেশনা ছিল। যেহেতু থানা ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে, সেহেতু আমরা সময় শেষেও সিডিউল দুটি বিক্রি করে ফেলেছি। এব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিবেন বলেও তিনি জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর কোন দপ্তর থেকে সিডিউল বিক্রিসরাসরি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনে থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া সিডিউল দুটির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ায় আপাতত চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর ৩টায় দরপত্র প্রাথমিক যাচাই বাছাই কালে নির্বাহী অফিসার তাছলিমা আক্তার ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মুজিবর রহমান অনুপস্থিত থাকলেও মৎস্য অফিসার বদরুজ্জামান, সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, জেলা পরিষদ সদস্য আল ফেরদৌস আলফা, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওন, কৃষি অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে সম্প্রসারণ অফিসার শওকাত ওসমান, কুলিয়া প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, পারুলিয়া চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি হিসেবে এক মহিলা মেম্বর, এলজিইডি অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে হিসাবরক্ষক নুরুল ইসলাম, নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের আত্তাব উদ্দীন, এএসআই শামিম হোসেন সহ বিভিন্ন বাজারের দরদাতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে দাখিলকৃত দরপত্র সমুহের খসড়া তালিকা করে নির্বাহী অফিসারের না আসা অবদি সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা।