জনসেবার জন্য প্রশাসন প্রমান করেছে সাতক্ষীরার ডিসি এসএম মোস্তফা কামাল

6

আবু হুরাইরা (রিফাত): সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ভবনের দুইতলায় সিঁড়ির উপরে উঠতেই চোখে পড়ে, জনসেবার জন্য প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের অফিসে গেলেই লেখাটি কেন জানি চোখে পড়ে। তখন ভাবি আসলেই কি ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন? সাধারণ মানুষ যখন অভিযোগ করে কোন কাজে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গেলে হয়রানি স্বীকার হতে হয়। যা ছিল নিত্য দিনের ঘটনার মত। এক সময় সাধারণ মানুষ এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করে নিয়েছিল সাতক্ষীরায়। কোন ভুক্তভোগী মানুষের সমস্যার কথা বলতে গেলে দেশের জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করতে গিয়ে কত যে হয়রানি স্বীকার হয়েছে তা শুধু ওই ভুক্তভোগী মানুষেরা জানেন।সাতক্ষীরায় গত ১৫ বছরে কয়েকজন জেলা প্রশাসকের রদ-বদল হয়েছে। সেই সমেয়ে অনেক মানুষ জেলা প্রশাসকের কাছে সমস্যার কথা বলতে পেরেছে, অনেকের সমাধানও হয়েছে। আর বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মানুষ কথা বলার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি বলেও অনেকের অভিযোগও রয়েছে। সংবাদকর্মী হিসেবে যখন কোন ভুক্তভোগী মানুষের কথা শুনি মাঝে মাঝেই মনে হতো জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ভবনের দুইতলায় সিঁড়ির উপরের বাক্যটি জনসেবার জন্য প্রশাসন’ মনে হয় সত্য নয়! কিন্তু সম্প্রতি সাতক্ষীরা এখন আমার কেন জানি মনে হচ্ছে আসলেই জনসেবার জন্য প্রশাসন। উপরোক্ত কথা বলার কারণ গুলো হলো:- ৯অক্টোবর ২০১৮ সালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহন করে এস এম মোস্তফা কামাল নামে একজন বিনয়ী ব্যক্তি। দায়িত্ব গ্রহনের পর প্রথমেই তিনি সাতক্ষীরার সকল পেশাজীবি মানুষের সাথে মত বিনিময় সভা করেন। সাতক্ষীরার সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়নসহ বিধিত বিষয় নিয়ে পরামর্শ নেন। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে কোন এক মতবিনিময় সভায় আমারো উপস্থিত থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সভায় সংবাদকর্মী হিসেবে বক্তব্যে-এইটুকুই বলেছিলাম স্যার মাঝে মধ্যে আপনাকে একটু সাক্ষাতকারের জন্য বিরক্ত করবো, সেই সুযোগটি দিয়েন। উনি বলেছিলেন, আমার দরজা সকল মানুষের জন্য খোলা। কথাটি শুনে মনে মনে হাসি পাচ্ছিলো! কারণ এর আগেও অনেক ডিসি সাহেব বলেছিলেন এমন কথা। তারপর পর থেকে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল সাতক্ষীরায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যেই সাতক্ষীরা মানুষের প্রেমে পড়ে যান। যেটি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিজ ফেসবুকে মত প্রকাশ করেছেন” তারপর তিনি সাতক্ষীরা উন্নয়ন, সম্ভাবনা, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনও সাধারণ মানুষের কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস্ত করেন। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন তিনি। সাতক্ষীরায় কোন মানুষ যখন সমস্যার কথা গুলো বলার জন্য জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের কাছে যান, এখন আর ফিরে এসে বলেন না ডিসি সাহেবের সাথে দেখা করতে পারলাম না। আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের শ্রী তপন কুমারের কাছে জানতে চাইলেই তিনি বলেন, ডিসি সাহেবের মত ভাল, নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, নির্ভীক, সৎ মানুষ এ জেলা কখনো দেখিনি। আমি ঢাকার ইংরেজি দৈনিক ডেইলি অবজারভার পত্রিকায় সাংবাদিকতার সাথে জড়িত থাকার কারণে জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে এসএম মোস্তফা কামাল স্যারের কাছে যেতে হয়। কিন্তু তিনি কখনই বলেননি আমি এই বিষয়ে সাক্ষাতকার দিতে পারবো না। পরে আসেন, অফিসে কাজে ব্যস্ত রয়েছি। যেকোন বিষয়ে জানতে চাইলেই সহজেই সাক্ষাতকার দিয়ে দেন ও জেলাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য পরামর্শ চান তিনি। আমার খুব অবাক লেগেছে উনার সাথে দেখা করতে গেলেই প্রথমে একটি মিষ্টি হাসি দেন। যা দেখেই মনটা ভরে যায়। কথা শেষে চলে আসার সময় উনি নিজের চেয়ার থেকে উঠে হাত মিলিয়ে দিতেন। কোন স্থানে গেলে তিনি শিশু বাচ্ছাদের সাথে কথা বলতেন, ছড়িয়ে ধরে ছবি তুলছেন। শুধু আমি না, একজন সাধারণ মানুষ দেখা করতে গেলেই নিয়মিত এটি করেন তিনি বলে অফিসের দায়িত্বরত কর্মচারিদের সূত্রে জানা গেছে। যা দেশের কোন জেলা প্রশাসক বা সরকারি উদ্বতন কর্মকর্তা করেন কি না আমার জানা নেই ? এসএম মোস্তফা কামাল সাতক্ষীরায় দায়িত্ব গ্রহন করার পর জেলায় বড় কোন ঘটনা, হত্যা, সড়ক দূর্ঘটনাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমুক্ষিন হলে তাৎক্ষনিক উনার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। যা বিগত সময়ে কোন প্রশাসনের বড় কর্মকর্তাদের চোখে পড়েনি। কোন ঘটনায় যখন জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ছুটে যান তখন সাধারণ মানুষও অবাক হয়ে বলেন, কেমন ডিসি উনি একটু সমস্যা হলেই সবখানে। এর আগে তো কাউকে এমন ভূমিকায় দেখিনি কখনো। প্রবল বর্ষনে নিন্মাঞ্চল শ্যামনগর প্লাবিত হয়। সেইসব পরিবারের কাছে ছুটে যান তিনি। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পরামর্শ দেন, অনেকে কথা শুনে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান তখনই। তিনি তাদের  খাবার, ওষুধ, পানির ব্যবস্থা করেন। বাস স্থানেরও ব্যবস্থা করেন। ওই সময় রাত ১টা পর্যন্ত বন্যায় প্লাবিত মানুষের পাশে গিয়ে থাকার আশ্রয় ও সাহস জাগিয়েছিলেন তিনি। সাতক্ষীরায় এর আগেও এমন প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতা এবারের মত কখনোই লক্ষ্য করা যায়নি বলে সাধারণ মানুষ অভিমত প্রকাশ করেছেন। করোনা কালিন সময়ে সাতক্ষীরার সকল মানুষ ভাল থাকার জন্য তিনি দিন রাত এক করে পরামশ্য দিয়েছেন। মাক্স বিতরণ করেছেন। খাবার ও ওষুধ দিয়েছেন। সাতক্ষীরা বাইপাশ সড়ক নির্মাণ, বিভিন্ন স্থানে বিনোদন সেন্টার করা, জেলা পরিস্কার পরিছন্ন রাখা। যা চোখে পড়ান মতো কাজ তিনি করেছেন। দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি আন্তরিক ভাবে সকল সমস্যা ও প্রাকৃতিক দূযোর্গে এভাবেই এগিয়ে আসেন তাহলে দেশে যেন কোন দূর্ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষ অনেকাংশে মুক্তি পাবে। কিন্তু আমার দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাবের কারণে সরকারি কর্মকর্তারা নানা রকম অনিয়নের পথে পা বাড়ানোর জন্য দায়ী। আমলাদের মনের মধ্যে জনসেবা করার ইচ্ছে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নানা ভাবে বাঁধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। আসুন না স্বচ্ছ রাজনৈতিক ও আমলাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে সকলে একযোগে কাজ করি। দেখবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর “সোনার বাংলা” গড়তে বেশিদিন সময় লাগবে না।