ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক অনুদানের অনলাইন আবেদনের নামে চলছে প্রতারনা ও রমরমা ব্যবসা :

23

*১০ হাজার টাকা অনুদানের গুজবে স্কুল-কলেজে ভিড় করছে শিক্ষার্থীরা ।

* নজরে নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ।

*ফটোকপি ও কম্পিউটার অনলাইন ব্যবসায়ীরা চালিয়ে যাচেছ রমরমা ব্যবসা ।

ডেস্ক : ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক অনুদানের নামে রমরমা ব্যবসা করছে শ্যামনগর উপজেলার ভেটখালী বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজারের এক শ্রেনীর অসাধূ নেট ব্যবসায়ী । অনুদানের আবেদনের কপি সাবমিট না করে প্রিন্ট দিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে তুলে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। যেন বিষয়টি দেখার কেহ নাই। অপর দিকে করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই গুজবে বিশ্বাস করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঢল নেমেছে দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে। ফটোকপি ও অনলাইন সার্ভিসের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের প্রত্যয়ন নিতে শহরের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা৷ এমনকি শহরে অবস্থান না করা শিক্ষার্থীরাও আবেদনের জন্য ফিরে এসেছে। গত ১৮ জানুয়ারি ফজলুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি অনুদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের বিজ্ঞপ্তিতে টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই। নীতিমালা ও শর্ত অনুসারে সবাই আবেদনের যোগ্যও না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে সবাইকে অনুদান দেওয়া হবে ।ওই বিজ্ঞপ্তিতে সবার জন্য সরকারি অনুদান দেওয়ার কথা বলা নেই। বলা আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ক্রয়সহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজের জন্য, শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দূরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার সহায়তার জন্য এবং শিক্ষার্থী যারা দূরারোগ্য ব্যাধি, দৈব দুর্ঘটনা এবং শিক্ষাগ্রহণ কাজে ব্যয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। তবে শিক্ষার্থীদের এ বিশেষ অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, অসহায়, রোগগ্রস্ত, গরিব, মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এই অনুদানের আবেদনের সময়সীমা ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। মাউশি সেই আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েছে আজ (৭ মার্চ) পর্যন্ত। ২৮ ফেব্রুয়ারি সময় বাড়ানোরও ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান কভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো। এদিকে মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে অনুদানের টাকার পরিমাণ উল্লেখ না থাকলেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাউশি থেকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়েছে। এই অনুদানের টাকা পাওয়ার জন্য করোনা পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা সকল স্কুল-কলেজে সকাল থেকেই প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার জন্য ভিড় করেছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। অনলাইনে আবেদনের নিয়ম থাকার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাইকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের গুজব ছড়ানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিড় করছে বলেও অনেকেই মনে করছেন। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানশিক্ষকরা জানান, গত বছরের মতো এ বছরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন চাওয়া হয়েছে। দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনার শিকার শিক্ষক-কর্মচারি ও শিক্ষার্থীরা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুস্থ, প্রতিবন্ধী, গরিব ও অনগ্রসর ছাত্র-ছাত্রীরা অগ্রাধিকার পাবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া সংস্কার, আসবাবপত্র, খেলার সামগ্রী এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করতে পারবে। আগামী ৭ মার্চ আবেদনের শেষ সময়। তবে এটি করোনা প্রণোদনা বা স্টুডেন্ট ভাতা না। শিক্ষার্থীরা জানায়, করোনাকালীন স্টুডেন্ট ভাতা হিসেবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করার কথা শুনে তারা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে অনলাইনে আবেদনের জন্য ভিড় করেছেন। কিন্তু নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ঢোকা যাচ্ছে না। এ ছাড়া কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে প্রত্যয়ন দিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুদান দেয়ার নামে এক শ্রেণির প্রতারক চক্র ব্যক্তিগত ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করে প্রতারণা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচয় দিয়ে এসব তথ্য নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানিয়ে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) একটি সর্তকতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ শিক্ষা অর্থবছরে বিশেষ অনুদান খাতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের অনুদান প্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারক চক্র ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল ফোনে জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন ইত্যাদি চাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচয় দিয়ে ফোনগুলো করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুদান বিষয়ে ইতোপূর্বে কাউকে ফোন দেয়া হয়নি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র, বিকাশ নম্বর ও গোপন পিন সংক্রান্ত কোনো তথ্যও চাওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রতারক চক্র হতে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষকরা জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ অনুদান প্রদানের বর্ধিত সূচি প্রকাশের পর গুজব রটেছে,সরকার করোনার জন্য শিক্ষার্থীদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার করে টাকা দিচ্ছে। আর শিক্ষার্থীরা এই গুজবে কান দিয়ে আবেদনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য ছুটাছুটি করছে। যারাই এই গুজব শুনেছে তারা সবাই এটা বিশ্বাস করে অনলাইনে আবেদন করছে। ফটোকপি ও কম্পিউটার দোকানদাররা এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে শ্যামনগর উপজেলা ব্যাপি হয়রানী ও প্রতারনার স্বিকার হচ্ছে অসহায় দারিদ্র শ্রেনীর ছাত্র/ছাত্রীরা। উপজেলার ভেটখালী বাজারসহ বেশ কয়েটি বাজারে ছাত্রী/ছাত্রী , অভিভাবকদের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র এবং অনলাইন করার জন্য ৫০/২০০ টাকা অগ্রিম ‍নিচ্ছে। পরবর্তীতে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন না করে প্রিন্ড করে তুলে দিচ্ছে ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে। এ ভাবে প্রতারনা করে চলেছে প্রতিদিন। যেন বিষয়টি দেখার কেহ নাই। আর কত হয়রানীর স্বিকার হবে ছাত্র/ছাত্রীরা এমন ধরনের প্রশ্ন সচেতন মহলের। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড ) বলেন, ছাত্র/ছাত্রীদের হয়রানী করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপজেলা শিক্ষা একাডেমিক সৃুপার ভাইজার মিনা হাবিবুর রহমান বলেন , শুধু মাত্র গরীব ও মেধাবী ছাত্রীরা আবেদন করতে পারবে। অনিয়মের সাথে কোন স্কুল শিক্ষত জড়িত থাকেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিষয়টি নজরে নিয়ে ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে প্রতারনা ও হয়রানীর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।