সাতক্ষীরায় মিথ্যে মামলার দায় থেকে অব্যহতির দাবিতে এক মুদি ব্যবসায়ির সংবাদ সম্মেলন

4

 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মিথ্যে মামলার দায় থেকে নিজে ও স্ত্রীকে অব্যহতি এবং সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন এক মুদি ব্যবসায়ি। রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলার মাগুরা দাশপাড়া এলাকার মৃত সুধীর দাশের ছেলে আনন্দ দাশ এই দাবি জানান।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি পেশায় একজন মুদি ব্যবাসায়ি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে আমার প্রতিবেশী সাবেক বিডিআর সদস্য রূপ কুমার দাশের বাড়ির মধ্য থেকে চিৎকারের আওয়াজ শুনে আমি বাইরে এসে দেখি তার ডাকচিৎকারে ১০/১৫ জন এলাকাবাসী রূপ কুমার দাশের বাড়ির মুল ফটকের দিকে এগিয়ে এসেছে। এসময় রূপ কুমার দাশ বাড়ির গেট খুলে দিয়ে বলে, তার উপর কারা হামলা করেছে। আমিসহ সেখানে উপস্থিত এলাকাবসীর সামনে এসময় রূপ কুমার বলেছিল হামলাকারিদের কাউকে আমি চিনতে পারিনি। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ সদস্যদের সামনেও উপস্থিত গ্রামবাসী সে সময় একই কথা বলেছিল ।
আনন্দ দাশ অভিযোগ করে বলেন, এঘটনার পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমার বাড়ির সাথে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া ফাঁড়ির পুলিশ এসে আমাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানায় নিয়ে যায় এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলার নকল তুলে জানতে পারি যে, আমার প্রতিবেশী মৃত ভক্তচন্দ্র দাশের ছেলে সাবেক বিডিআর সদস্য রূপ কুমার দাশে (৬৫) এর উপর হামলা ঘটনায় সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আমি ৪ নং ও আমার স্ত্রী চায়না রানী দাশ ৫ নং আসামী। এছাড়া রূপ কুমারের প্রথম স্ত্রী ও তার ভাইয়েরাও এই মামলার ১,২, ও ৩ নং আসামী। মিথ্যে মামলা করেও রূপ কুমার ক্ষ্যান্ত হয়নি, বিভিন্ন মিথ্যে তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় একটি পত্রিকায় একটি মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। যা সম্পূর্ন মিথ্যে ও ভীত্তিহীন।আনন্দ দাশ আরো বলেন, রূপ কুমার দাশের প্রথম স্ত্রী অশ্রু দাশ প্যারালাইজড হয়ে গত দুই বছর ধরে হাটা চলা করতে পারে না। তাকে আমি কেন মারতে যাবো এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, তারা হয়রানি করার জন্য আমার ও স্ত্রী চায়না রানীর বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করেছে। ঘটনার তদন্ত না করে রূপ কুমারের মিথ্যে অভিযোগ পুলিশ কিভাবে মামলা রেকড করলো তা আমার বোধগম্য নয়। পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এই মিথ্যে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে আমি ১০দিন কারাভোগের পর গত ৫ মার্চ জামিনে মুক্তি পাই। মিথ্যে মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি।
তিনি মিথ্যে মামলার দায় থেকে স্বামী-স্ত্রীকে অব্যহতি ও ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও শান্তির দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।