শ্যামনগরে আবারও রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ কৌশলে ডেকে নিয়ে প্রতারনা!

15
শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে আবারও রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের বিরুদ্ধে কৌশলে ডেকে নিয়ে প্রতারনা অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাসূত্রে জানাগেছে যে, রমজাননগর ইউনিয়নের তারানীপুর গ্রামের শ্রবন প্রতিবন্ধী এবং ভেটখালী বাজারের একটি হোটেলের রাধুনি মোমেনা খাতুনের মেয়ে মনিকা ইসলাম গত ১৪ মার্চ ২০২১ তারিখ রাত ১২টার সময়ে গর্ভবতি হওয়ায় শ্যামনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌছায়। ঐ রাতে হাসপাতালে ডাক্তার না থাকা গর্ভবতি মনিকার অবস্থা আসঙ্খা জনক দেখে তার সাথে থাকা মামতো ভাই রাইসুল ইসলাম সবুজ বিভিন্ন ক্লিনিকে খোঁজ নিতে থাকে। ঐ সময়ে রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের রিসেপশন-১ দ্বায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সাথে সম্পূর্ন ১৩ হাজার টাকা খরচ চুক্তির মাধ্যমে ভর্তি করে। এবং সাথে আল্ট্রসনা রির্পোট এবং রক্তের গ্রæপের রির্পোট দেওয়া হয়। সাথে সাথে অপরেশন রুমে ঢুকিয়ে শুরু হয় নানা বাহানা। বি ভাইরাস্ আছে কি না ? জানতে রক্ত পরিক্ষার জন্য ২১শ টাকার রির্পোট করা হয়। অপরেশনের পর বাচ্চা অভিভাবকদের না দেখিয়ে অজানা পরিক্ষার করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঐ রির্পোট নেওয়ার জন্য চাপিয়ে দেওয়া হয় ২৬শ ৫০ টাকা। এর পরও বা”্চা পজেটিভ ও মা নেগেটিভ বলে রুগীর অভিভাবকদের বাচ্চা না বাঁচার ভয় দেখায় এবং পরবর্তি বাচ্চা প্রতিবন্ধী হতে পারে এমন ধরনের কথা বলে ৩৫শ টাকার একটি ইনজেক্টশন দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় ইনডোর ক্যাশমেমো। অপরেশন থিয়েটারের ভিতরে সার্জন (ডা:) চার্জ ৬ হাজার টাকা, এ্যানেস্থেসিয়া (ডা:) চার্জ ১৫শ টাকা, রাউন্ড (ডা:) চার্জ মেডিসিন/সার্জারী) ১৫শ টাকা, এ্যাসিষ্টেন্ড চার্জ ১ হাজার টাকা, ও,টি চার্জ ২ হাজার টাকা, বেড/কেবিন ভাড়া (৩দিন) ১৫শ টাকা, ও,টি মেডিসিন ৩৫শ টাকা, অক্সিজেন চার্জ ৫শ টাকা মোট বিল করা হয় ১৭ হাজার ৫শ টাকা। ছাড় হিসাবে দেওয়া হয় ২৫শ টাকা। মোট বিল ১৫ হাজার টাকা দেখানো হয়। রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের নিজস্ব ফার্মেসী থেকে সকল ঔষুধ নিয়ে ইচ্ছে মত দাম ধরে মোট ইনডোর ক্যাশমেমো করেন এবং সেখানে মেমো না দিয়ে ৯ হাজার টাকার ঔষুদ নেওয়া হয়েছে তার থেকে ছাড় দেওয়া হয় ৩৪শ টাকা। মোট বিল ৫ হাজার ৬শ টাকা দেখানো হয়। হিসাবে সর্ব মোট বিল ২৬ হাজার ৭শ ৫০ টাকা হিসাব দেখায়। অসহায় শ্রবন প্রতিবন্ধী মোমেনা এবং তার মামাতো ভাই পড়ে চরম বিপাকে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে সাহায্যের জন্য আবেদন করতে থাকে। বিভিন্ন জায়গার সাহায্যের মাধ্যমে দফায় দফায় ২০ হাজার ৫শ টাকা দেওয়া হয়। রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ অশ্লীন ভাষা ব্যবহার করে এবং ঔষুধ কেঁড়ে নিয়ে ছাড়পত্র এবং রুগীর প্রেসক্রিপশন না দিয়ে রুগীকে রিডা প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে তাড়িয়ে করে দেন। বর্তমানে মনিকা স্থাণীয় একটি গ্রাম্য চিকিৎসকের চিকিৎসা নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। বর্তমানে তার রক্তক্ষরন হচ্ছে এবং কাটা জায়গা ফুলে গেছে। মোমেনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে ভেটখালী বাজারে একটি হোটেলে কাজ করে একমাত্র মেয়েকে এসএসসি পরিক্ষায় উর্ত্তিন্ন করার পর খুলনার পথের বাজার নামক গ্রামে জাকারিয়া নামের এক ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেন। বিয়ের পর জাকারিয়া অর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে ঢাকায় কাজ করতে যান। এর মধ্যে মনিকা গর্ভবতি হওয়ায় বিধবা মায়ের বাড়ীতে আসে। মোমেনা বলেন, আমি স্বামি হারিয়ে তারানীপুর গ্রামে ব্রিজের ¯েøাবের নিচে ভাঙ্গা ঘরে বসাবস করি। সরকারী সাহায্য বলতে একটি বিধবা কার্ড ছাড়া কিছুই নেই আমার। আর হোটেল থেকে যা পাই তাই নিয়ে কোন রকমে চলি। রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। চুক্তি করে পরে ইচ্ছে মত জোরপূর্বক টাকা আদায় করেছে। আমি অসহায় মহিলা হয়ে কি বা করতে পারি বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তবে রিডা প্রাইভেট ক্লিনিকের কর্তৃপক্ষ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করার জন্য মনিকার মামা আক্তার হোসেনকে বলা হয়েছে। আমরা আলোচনা করে নেবো।