সঙ্গী হিসেবে ইমন অনন্য: নীলাঞ্জন ঘোষ

9

বিনোদন: কলকাতার বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির অতি পরিচিত মুখ নীলাঞ্জন ঘোষ। অনুভূতি আর ভালোবাসার মিশেলে গানে সুর বাধেন তিনি। কলকাতার জনপ্রিয় সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব তিনি। সম্প্রতি গাটছড়া বেঁধেছেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী সাথে। স্ত্রীর কাজের সূত্রে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। সময়ের গল্পের সঙ্গে আলাপকালে একে একে বলে ফেললেন অনেক গল্পই। গল্প আড্ডার এক পর্যায়ে নীলাঞ্জনের কাছে প্রশ্ন ছিল সঙ্গীনী হিসেবে ইমন চক্রবর্তী কেমন? অকপটে জানালেন, সবকিছুতে মিল না থাকলেও সঙ্গী হিসেবে ইমন অনন্য।সঙ্গীতশিল্পী ও সুরকার নীলাঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘আমাদের দুজনের সব কিছুতে যে একদম পুরোপুরি মিল বিষয়টি এমন নয়। আমাদেরও অনেক কিছুতে অনেক অমিল আছে। কিন্তু একজনকে মানুষ বা সঙ্গী হিসেবে বিবেচনায় রাখতে যে বেসিক কিছু বিষয় থাকা প্রয়োজন ইমন তাতে একশোতে একশো। এছাড়া আমরা দুজনই সঙ্গীতের মানুষ সেদিকটাতেও অনেক মিল।’
একই প্রশ্ন ছিল ইমনের কাছেও। কেন নীলাঞ্জনকেই বেছে নিলেন আজীবনের সঙ্গী হিসেবে। এ বিষয় ইমন বলেন, ‘নীলাঞ্জন সঙ্গী হিসেবে খুবই দারুণ ব্যক্তিত্বের। ও নারীদের ভীষণ সম্মান করে। নারীদের মুড সুয়িং বিষয়টিকেও ভীষণ সম্মানের চোখে দেখে, মোট কথা সে খুবই ভালো বোঝে। স্বামী হিসেবে সে একজন দারুণ কেয়ারিং ব্যক্তিত্বের।’
বিয়ের পরে দুজনেই বাংলাদেশে আসাটা উপভোগ করছেন দারুণভাবেই। সেকথাও জানালেন সুরকার নীলাঞ্জন ঘোষ নিজেই।
সঙ্গীতের ছন্দে জীবন বাঁধা না পড়লে আর কি হতে চাইতেন এমন প্রশ্ন ছিল তার কাছে। ভারতীয় সুরকার নীলাঞ্জন ঘোষ অকপটে বলেন, ‘ছোটবেলা ডাক্তার হতে চাইতাম। কিন্তু খুব ভালো হয়েছে যে ডাক্তার না হয়ে সঙ্গীতের মানুষ হয়েছি। কারণ আগের দিনে ডাক্তাররা যে ব্রত নিয়ে কাজ করত এরপর এসে সেটা থেকে মানুষ কিছুটা সরে গেছে। অর্থাৎ চিকিৎসকের বা অন্য পেশায় মানুষের জীবন মরণ ভালো মন্দের বিষয়টি জড়িত। কিন্তু সঙ্গীতের সাথে কারও জীবন মরণের বিষয়টি জড়িত না। কেউ না চাইলেই সঙ্গীতকে এড়িয়ে যেতে পারে এতে কারও কোনো ক্ষতি হয় না।
নীলাঞ্জনের পারিবারিক শেকড় বাংলাদেশের বরিশালে। কিন্তু এবারই তিনি প্রথম এসেছেন বাংলাদেশে। তাই বাংলাদেশে আসার অনুভূতিগুলো তার কাছে কিছুটা আবেগের।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা আমার প্রথম আসা। তবে আমার পারিবারিক শেকড় বাংলাদেশের বরিশালে। তাই এপার আর ওপারের বিষয়টি মিলিয়ে আমি আসলে ঘটি বাটি। বাংলাদেশে এসে দারুণ লাগছে। বিশেষ করে এখানকার মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ আমি। যে পরিমাণ খাওয়াচ্ছে সবাই তাতে করে মনে হচ্ছে আরও ১০ বছর আগে আসলেই বেশি ভালো হতো কেননা তখন হজম শক্তিটা ভালো ছিল।’

এরকম আরও নানা প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশে আসার দারুণ অভিজ্ঞতাটা হাসতে হাসতে ব্যক্ত করছিলেন নীলাঞ্জন ঘোষ।