সাতক্ষীরায় অনুমোদন ছাড়াই চলছে ছাপাখানা ব্যবসা : কর্তৃপক্ষ নিরব

18
নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সাতক্ষীরা শহরে গড়ে উঠেছে ব্যাঙের ছাতার মতো ছাপাখানা। অবৈধ এসব ছাপাখানায় কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় পোষ্টার, লিফলেটসহ নানা ধরনের অপরাধে উষ্কানীমূলক কর্মকান্ড। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনের ডিক্লারেশন (ঘোষণাপত্র) না থাকা এসব প্রিন্টিং প্রেসে গত ২০২৩-১৪ সালে রাষ্ট্র বিরোধীসহ সরকার উৎখাতের লাখ লাখ কপি পোষ্টার ছাপাও হয়েছিলো। সাতক্ষীরাসহ এর পাশর্^বর্তী জেলার সহিংসতা সৃষ্টি কারীরাও এসব অবৈধ প্রিন্টিং প্রেস থেকে সরকার বিরোধী পোস্টার লিফলেট রাতের আধারে ছেপে নিয়েছিলো। আর কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ প্রেস মালিকরা বছরের পর বছর ধরে চার দেয়ালের মধ্যে বসে চালিয়ে আসছে এসব অবৈধ এ কাজ। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের শহীদ নাজমুল সরণি রোডে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছাপাখানা। নাম সর্বত্র একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রশাসনের ডিক্লারেশন ছাড়াই চলছে ছাপাখানা। সময়ের পরিবর্তনে ভিন্ন ভিন্ন নামে চলছে তাদের গোপন এ ব্যবসা। ফলে সচেতন মহলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা জিজ্ঞাসা । দেশের অন্যান্য স্থানে প্রিন্টিং প্রেস ব্যবসায়ী মালিক সমিতি থাকলেও সাতক্ষীরায় কোন সমিতি বা তাদের কোন সংগঠন নেই। ফলে যে যার মতো দর দাম হকিয়ে কাস্টমাদের ঠকাচ্ছে। পোস্টার লিফলেটেও নেই কোন ধরা বাধা দাম। তালা থেকে পোস্টার ছাপাতে আসা শাহিন নামের এক ব্যক্তি জানালেন, নিউ মডার্ন প্রেসে ভোটের পোষ্টার ১৫শ’ টাকা হাজার। একই পোষ্টার পাশের বাবুল প্রিন্টিং প্রেসে ১৩শ’ টাকা। কলারোয়া থেকে ভোটের পোষ্টার ছাপতে আসা আব্দুল হামিদ বলেন, প্রেস মালিকরা জোর জবর দস্তি করে একেক জন একেক দাম বলে। পোষ্টার ছাপাতে না চাইলে সম্মানহানি কথা বলে। গাবতলী টার্মিনালে যাত্রী হয়রানীর মতো অবস্থা। তার মতো অনেকে জানান, ফুটপথে হকারদের মতো এরা পাগল করে দিচ্ছে। কোন নিয়ম নীতির বালই নেই। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনিও এসব দেখেও না দেখার ভান করে। চোখ থাকতেও যেন দেখে না প্রশাসন। জানা গেছে, অবৈধ প্রেস ব্যবসায় রাতা রাতি কোটিপতি বনে যাওয়া এসব প্রেস মালিকদের দৌরাত্ব এতটাই বেশী যে, তারা খুলনা ও যশোর থেকে অনুমোদন নেওয়া বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকাও সাতক্ষীরার বিভিন্ন ছাপাখানা থেকে ছাপানো হচ্ছে। একই সাথে সাতক্ষীরার অনেক পত্রিকাও যে প্রেস থেকে অনুমোদন নেননি সেই প্রেস থেকে ছাপানোর কাজ অব্যহত আছে। এটা আইনত দন্ডনীয় অপরাধের পর্যায়ে পড়লেও অদৃশ্য কারনে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে না কোন আইনগত ব্যবস্থা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় ৩৫ টিরও বেশী প্রিন্টিং প্রেস বই পুস্তকসহ বিভিন্ন পোস্টার, লিফলেট, ব্রুশিয়ার, ম্যাগাজিন, ব্যানার, কালেন্ডার, ভিজিটিং কার্ড এবং যাবতীয় সরকারি বেসরকারি কাজ করে আসছে। আশ্চার্যের বিষয় হলেও সত্য যে উক্ত ৩৫ টি প্রেসের মধ্যে সরকারি আনুমোদন আছে মাত্র ৩ টি প্রিন্টিং প্রেসের। শহরের সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ এসব ছাপাখানার মালিকরা শুধু অপরাধই করছেন তা নয়। একই সাথে তারা সরকারের অনুমোদন না নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে। এদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। অন্যথায় অপরাধের সাথে পাল্লা দিয়ে তারা সরকারের রাজস্বও ফাঁকি দিয়েও কালো টাকার মালিক বনে যাবে। খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে, জাহান প্রিন্টিং প্রেস, হৃদয় প্রিন্টিং প্রেস ও রাজ অফসেট প্রেসের নিবন্ধন আছে। এই তিন প্রেসের মালিকরাই সরকারি নিয়ম নীতি মেনে তারা প্রেসের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরা শহরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রেস গুলো হলো, নিউ মডার্ণ প্রেস, মর্ডাণ আর্ট প্রেস, মডার্ণ প্রেস, নিউ সাতক্ষীরা প্রিন্টিং প্রেস, মেহেমত প্রিন্টিং প্রেস, বাবুল প্রিন্টিং প্রেস, চিত্র প্রিন্টিং প্রেস, মোহিনী প্রিন্টিং প্রেস, বিসমিল্লাহ প্রিন্টিং প্রেস, পদ্মা অফসেট প্রেস, ডিজিটাল প্রেস, মমতা প্রিন্টিং প্রেস, আহছানিয়া প্রিন্টিং প্রেস, মদিনা প্রিন্টিং প্রেস, জননী প্রিন্টিং প্রেস, ঘাসফুল প্রিন্টিং প্রেস, খান প্রেস, গ্লোব প্রিন্টিং প্রেস, নিউ ইউনাইটেড প্রিন্টিং প্রেস, হাসান প্রিন্টিং প্রেস, দারুল কোরআন প্রেস, জিয়া প্রিন্টিং প্রেস, আপন প্রিন্টিং প্রেস, হক প্রিন্টিং প্রেস, ভাই ভাই প্রিন্টিং প্রেস। এবিষয়ে জানতে চাইলে মডার্ণ আর্ট প্রেসের মালিক খোকন জানান, প্রিন্টিং প্রেস নিবন্ধন করার জন্য অনেক আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছিলো। নানা জটিলতার কারনে কাগজ পত্র সেভাবেই পড়ে আছে। পরে আর খোজ নেয়া হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহরে ৩৫/৪০ টির মতো প্রেস আছে। উপজেলা ধরলে শতাধিক হবে। কারোই নিবন্ধন নেই তাই আমিও করিনি। এবিষয়ে জাহান প্রিন্টিং প্রেসের আবু শোয়েব এবেল জানান, নিবন্ধন ছাড়াই চলছে সাতক্ষীরার প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবসা। তিনি ব্যক্তি গত ভাবে একবার সব প্রেস মালিককে ডেকে নিবন্ধন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কাগজ পত্রও ডিসি অফিস হয়ে ডিএসবিতে পাঠানো হয়েছিলো। পরে প্রেস মালিকরা আর যোগাযোগ করেনি। সরকরি নিয়ম মেনে সবাই ব্যবসা পরিচালনা করুক এটা তার কাম্য। ব্যবসায়ীরা আগ্রহী না হলে তার তো কিছু করার থাকে না।