সুন্দরবনের বিষ দিয়ে মাছ ধরার চক্রগুলো

58
জি এম মাছুম বিল্লাহ :সুন্দরবনের বিষ দিয়ে মাছ ধরার চক্রগুলো আবারো বেপরোয়া, হুমকির মুখে সুন্দরবন। সুন্দরবনের বিভিন্ন খাল ও নদ-নদীতে বিষ প্রয়োগে অবাধে চলছে মাছ শিকার। বিষ প্রয়োগে ধরা এসব মাছ বিক্রয় হচ্ছে বিভিন্ন মৎস্য সেট ও খটিতে। এতে লাভবান হচ্ছেন বিষ প্রয়োগ কারি জেলে ও তাদের কাছ থেকে অল্প দামে কেনা কিছু খটি ব্যবসায়ীরা। সুন্দরবনে এভাবে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরায় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ জেলের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে শত শত মাছের প্রজাতির ধ্বংসের পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।বিষ ক্রিয়ায় মারা যাওয়া এসব মাছ খেলে হতে পারে জীবনঘাতী রোগসহ মৃত্যুঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ছে। সুন্দরবনে নদী ও খালগুলো দিন দিন মাছশূন্য হওয়ার পাশাপাশি নিধন হচ্ছে অন্যান্য জলজ প্রাণীও।জেলেদের বিষ প্রয়োগের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।প্রতিবছর কোটি টাকার মাছ বিষ প্রয়োগে মারা হচ্ছে।এতে শত শত মাছের প্রজাতি ধ্বংসের পাশাপাশি মৎস্য প্রজনন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অভ্যন্তরীন মৎস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত সুন্দরবন মৎস্য শুন্য হতে যাচ্ছে। সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। পশ্চিম সুন্দরবনের কৈখালী রেঞ্জের আওতাধীন কৈখালী, ট্যাংরাখালি ও ভেটখালী। কদমতলা রেঞ্জের চুনকুড়ি,মৌখালী ও কদমতলার আশেপাশের এলাকা। বুড়িগোয়ালিনী রেঞ্জের দাতিনাখালি, দৃষ্টিনন্দনসহ গাবুরার অনেক এলাকার অসাধু জেলেরা বিষ দিয়ে মৎস্য আহরণ করছে বলে জানা যায়। গাবুরার মোকলেস,কৈখালীর রফিকুল ও দাতিনাখালীর মজিবর বলেন,আমরা সাধারণ জেলে আমরাতো আর বিষ দিয়ে মাছ মারিনা। তারপরও পাশ নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।স্থানীয় কয়েকজন জেলে জানান,বন বিভাগ কিছুদিন আগেও বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান থাকলেও বর্তমানে সেটি চোখে পড়ার মত নয়। আগের তুলনায় এখন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগে মাছ ধরার সংখ্যাটাও বেড়েছে। সেই সাথে কীটনাশকে ধ্বংস হচ্ছে বনজ সম্পদ। সুন্দরবনের কোলঘেঁষে বসবাস বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকা নির্ভর করে মাছ ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু আহরণসহ নানা উপায়ে।কতিপয় অসাধু মাছ শিকারি স্থানীয় বন কর্মচারীদের সঙ্গে আঁতাতের মাধ্যমে পশ্চিম সুন্দরবনের আওতায় বিভিন্ন খালে বিষ প্রয়োগে অবাধে মাছ শিকার করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, বনবিভাগের এক শ্রেণির কর্মকর্তা উৎকোচ নিয়ে এ অসাধু মাছ শিকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।এ বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আমরা অভিযান পরিচালনা করতে পারি সে ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বিষ দিয়ে মাছ ধরা জেলেদের ধরতে আমরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে সুন্দরবনের বিষ দিয়ে যারা মাছ মারে আমরা তাদের সম্পূর্ণ বিরোধী তাদের কোনো ছাড় নেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সুন্দরবনের অভয়ারণ্য বিষ দিয়ে মাছ মারা হচ্ছে এমন অভিযোগও আছে অনেক জেলেদের।