শ্যামনগরে মেম্বরের নেতৃত্বে মন্দির, প্রতিমা ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ

5

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় সহপাঠী কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় শ্যামনগরের ফুলতলায় রাস মন্দীরের প্র্রতিমা ভাংচুরসহ ১১জনকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা। শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় শ্যামনগরের কদমতলা গ্রামের ফুলতলা রাস মন্দির প্রাঙ্গনে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের শ্যামনগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিকাশ কুমার মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যাণার্জী, দীপ্ত টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁ, স্বদেশ এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক পিন্টু বাউলিয়া, শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সোলায়মান কবীর, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ, সুনাম শ্যামনগর শাখার সভাপতি কুমুদ রঞ্জন গাইন, সুশীলনের সহকারি পরিচালক মনিরুজ্জামান বাবলু, ব্যবসায়ি বরুণ ঘোষ, সমাজসেবক আব্দুর রশীদ, হরিপদ হালদার, সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল আলম, নির্যাতিত রীতা বাউলিয়া, মমতা মন্ডল প্রমুখ।প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপাজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামে এক সপ্তাহ আগে এক কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদের বিষয়টি দাবার গুটি হিসেবে কাজে লাগিয়ে ফুলতলা এলাকায় দু’টি বাড়ি, রাস মন্দির, শীতলা মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে চারজন নারীসহ ১১জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। আগামি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হিন্দুরা হরিপদ হালাদারকে ভোট দেবে এমন আশঙ্কা করে তার প্রতিশোধ নিতে গত ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আকবর আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার শ্যালক বংশীপুরের আব্দুল আলিমসহ ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এ হামলা চালিয়েছে। আকবর পাড় ও আব্দুল আলীমসহ সকল হামলাকারিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হিন্দু পাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিজেদের একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিহত করার বিকল্প কিছু নেই উল্লেখ করেন বক্তারা।গোবিন্দ বাউলিয়ার স্ত্রী রীতা বাউলিয়া বলেন, তারা দীর্ঘদিন আকবর পাড়কে ভোট দেন। বর্তমানে তার স্বামী গোবিন্দ বাউলিয়া সম্ভাব্য ইউপি সদস্য প্রার্থী হরিদাস হালদারের সঙ্গে চলাফেরা করে। এরজন্য তাকে ডেকে সতর্ক করেছেন আকবর আলী পাড়। হরিদাসের পক্ষে ভোট করবে বলে আকবর মেম্বর সুভাষ বাউলিয়া, মৃত্যুঞ্জয় বাউলিয়া, গোবিন্দ বাউলিয়া ও তারক বাউলিয়াকে ভাল চোখে দেখতেন না। তাই গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় গ্রামের পূজা মন্ডলকে উত্যক্ত করার ঘটনার প্রতিবাদ করার ঘটনাটি এক সপ্তাহ পর ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে হিন্দু পাড়ার ভোটারদের তার পক্ষে নিয়ে আসতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরপরই দূর সম্পর্কের শ্যালক ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বংশীপুরের আব্দুল আলিম ও আকবর পাড়ের নেতৃত্বে নগেন বাউলিয়া ও সুভাষ বাউলিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়।এর আগে ওই দু’টি বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন্ করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আকবরের বাড়ির ছাদ থেকে ইট ভেঙ্গে সুভাষ ও নগেন বাউলিয়ার বাড়ি, রান্না ঘর ও গোয়াল ঘরের চাল ভেঙ্গে দেওয়া হয়। নগেন বাউলিয়ার দু’ কিশোরী মেয়েকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ভাংচুর করা হয় দু’টি সাইকেল, ল্যপটপ। এ সময় ঘর থেকে বের হয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে গোবিন্দ বাউলিয়া, সুভাষ বাউলিয়া, নিত্যানন্দ বাউলিয়া, মিলন বাউলিয়া, মমতা, যতীন ও দীপিকাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। মন্দিরে অবস্থানকারি তপন মন্ডলকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করার পর প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। রীতা ও মমতা আত্মরক্ষার জন্য আকবর মেম্বরের পায়ে ধরেও ক্ষমা পাননি। মামলা করায় এখনো বহিরাগতরা সন্ধ্যার পর হিন্দু পাড়ায় এসে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রীতা ও মমতা।শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক রিপন মল্লিক জানান, কদমতলায় দু’টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর, লুটপাটসহ ১১জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার পাশপাশি মন্দির ও প্রতিমা ভাংচুরের মামলায় বংশীপুরের ইউসুফ গাজী ও জমাত গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।