পঞ্চম দিনেও খুলনা মহানগরীতে চলছে কঠোর লকডাউন

5

খুলনা প্রতিনিধি: কঠোর লকডাউনের পঞ্চম দিনে সকাল থেকে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ দোকান বন্ধ রয়েছে। ইজিবাইক ও রিক্সা চলাচল করছে সীমিত ভাবে।সকাল থেকে রূপসা খেয়া ঘাটের চিত্র ছিলো অন্যান্য দিনের চেয়ে একেবারে ভিন্ন। সকাল থেকে রূপসা ঘাটে ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেইসাথে সকাল সাতটা থেকে পুলিশ বাহিনীর ছয় সদস্যদের একটি টিম লকডাউন কার্যকরের জন্য ঘাটে দায়িত্ব পালন করছেন।রূপসা ঘাটের কালেক্টর মেহেদী জানান, আজ সকাল থেকে ঘাটের সকল ট্রলার পারাপার বন্ধ রয়েছে, তবে একটি ট্রলার রোগী পারাপার ও জরুরী কাজের জন্য যাত্রী পারাপার করছে। রূপসা ঘাটে ট্রলার পারাপার বন্ধ থাকলেও পার্শ্ববর্তী মাছ ঘাট থেকে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।এদিকে রূপসা ঘাটে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকলেও জেলখানা ঘাটে ট্রলার চলাচল করছে, বন্ধ নেই ফেরি পারাপারও। জেলখানা ঘাটের ট্রলার চালক শামিম জানান, গত ১৪ তারিখ থেকে এই ঘাটে ট্রলার চলাচল বন্ধ ছিলো, আজ সকাল থেকে যাত্রী পারাপার করছে তারা। এছাড়া লকডাউনের মধ্যেও ফেরি চলাচল করছে।লকডাউনের মধ্যেও বড়বাজারের কালিবাড়ী রোডের দোকানগুলো স্বাভাবিক সময়ের মতই খোলা ছিলো। প্রতিটি দোকানের সামনে ট্রাক বোঝাই পণ্য আনলোডে ব্যস্ত ছিলো শ্রমিকরা। তবে নগরীর থানার মোড়ের দৃশ্য ছিলো একেবারেই ভিন্ন। যান চলাচল ছিলো একেবারেই কম। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি গত চারদিনের চেয়ে একটু বেশি থাকলেও সকলের মুখেই ছিলো মাস্ক।এদিকে থানার মোড়ে ইজিবাইক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কয়লা ঘাট এলাকার পাইকারী দোকানের ক্রেতাদের।খালিশপুর এলাকার ঘের মালিক হাজী সিরাজুল ইসলাম থানার মোড়ে দাড়িয়ে আছেন অনেক সময় থেকে । মাছের জন্য দুই বস্তা খাবার কিনেছেন, কিন্তু লকডাউনের কারণে খালিশপুর যাওয়ার জন্য কোনো ইজিবাইক পাচ্ছেন না। তিনি জানান, খুব সকালে খালিশপুর থেকে বড় বাজারে আসতে পেরেছি, কিন্তু এখন আর কোনো ইজিবাইক পাচ্ছি না। লকডাউনে গাড়ি না থাকায় এই দূর্ভোগ হচ্ছে।এদিকে পিকচার প্যালেসের মোড়ের রাস্তার পাশের দু’একটি ফলের দোকান বাদে সকল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে গত চার দিনের তুলনায় সকাল থেকে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিলো একটু বেশি। এই মোড়ে ইজিবাইক না থাকলেও রিক্সার চলাচল ছিলো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।অপরদিকে খেলাধুলা মার্কেটের গলির মুখে লকডাউনের জন্য বাঁশ ও সাইনবোর্ড লাগানো থাকলেও মার্কেটের ভেতরে বেচা-কেনা চলছে। দোকানের বাইরে ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশের আনাগোনা পাহারায় রয়েছে মার্কেটের বেশ কিছু সদস্য।সকাল থেকে ডাকবাংলা মোড়ের সকল দোকান বন্ধ ছিলো। সকাল সাড়ে দশটা থেকে ডাকবাংলার মোড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের একটি টিম কাজ করতে দেখা যায়। এ সময় বেশ কিছু পথচারি ও মোটরসাইকেল চালককে জরিমানা করা হয়।তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম সকাল সাড়ে এগারোটার পর ডাকবাংলা এলাকা ত্যাগ করার পর পরই দু’একটি জুতার দোকান ফুটপাতে জুতা বিক্রি শুরু করে।