প্রতাপনগরের ওয়াপদার চরের বনোজ বৃক্ষ কর্তন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ

10

প্রতাপনগর প্রতিনিধি : প্রতাপনগরের পাউবোর ওয়াপদার চরের ভাঙ্গন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা কারি বনোজ বৃক্ষ কর্তন করে বেড়িবাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয়দের। গতকাল প্রতাপনগর খোলপেটুয়া নদীর হরিষ খালির পূর্ব অংশ ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজের অগ্রগতির অবস্থা চিত্র পরিদর্শন করতে যেয়ে দেখা ও জানা যায় বেড়িবাঁধের বাহির চরের ভাঙ্গন রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা কারি প্রায় ১৫/২০ টি কেওড়া বনোজ বৃক্ষ উপড়ে ফেলেছে।

সরোজমীনে যেয়ে আরো জানা যায় শ্রীউলা ইউনিয়নের ঠিকাদার আব্দুস ছালাম তার সাফ ঠিকাদার আনুলিয়া ইউনিয়নে একসরা গ্রামের এনামুল (মেম্বার) এর উপস্থিতিতে ভেকো মেশিনের সাহায্যে বেড়িবাঁধ নির্মাণের সুবিধার্থে বনোজ গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুধাংশু কুমার সরকার মুঠোফোনে বলেন এ বিষয়ে আমি জানিনা,আপনার কাছ থেকেই শুনলাম, ঠিকাদারের সাথে কথা বলছি, আর ওই গাছগুলো আমরাই লাগিয়ে ছিলাম, দেখি ব্যবস্তা নিচ্ছি। এছাড়াও উক্ত কাজ দেখভালের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস ও মিনারুল ইসলাম কে ঘটনা স্থানে পাওয়া গেলে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি যখন ছিলাম না বা রাতের আঁধারে গাছ গুলো কাটতে পারে। এখুনি স্যার কে জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য বিগত বছরের ২০ মে ২০২০ মহা প্রলয়ঙ্কারী জ্বলোচ্ছাস ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে উপকূলীয় প্রতাপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে দীর্ঘ প্রায় দশ মাস কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর লবণাক্ত পানির জোয়ার ভাটা উঠানামা করে। আর এই জোয়ার ভাটার পানি উঠানামার কারণে হরিষ খালির এই বেড়িবাঁধের ভিতর অংশে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক ভাঙ্গন চিত্রের খবর বিভিন্ন গনমাধ্যমে ও ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এবং তৎসময়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু দাউদ ঢালী, ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী সরদার, ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বুলি, সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হাসান মিলন সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ভূমিকায় শতশত স্বেচ্ছাশ্রমিকের অংশগ্রহণে ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব হয়। অতঃপর সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি গোচর হলে উক্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার লক্ষ্যে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে দৃশ্যমান।

কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেনতেন ছোট আকারের একটি ভেকো মেশিন যেটি চেইন ছিঁড়ে যাওয়ায় গত দুই সপ্তাহ অকার্যকর অবস্থায় পড়ে ছিল। এছাড়াও অত্র বেড়িবাঁধের গা ঘেঁষে মাটি উত্তোলন করে বেড়ীবাঁধ নির্মাণ কাজ করে চলেছে এলাকাবাসীর কোন কথার তোয়াক্কা করছে না। এহেন পরিস্থিতিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী অসহায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষেরা।