লকডাউ‌নে টি‌সি‌বির ট্রা‌কে ভিড় কম, তবুও পণ্য পা‌চ্ছেন না অ‌নে‌কে!

3

খুলনা প্রতিনিধি: লকডাউনের কারণে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের ভ্রাম্যমাণ ট্রাক গুলোতে কমেছে সাধারণ ক্রেতার ভিড়। দু’ একটি স্থানে ক্রেতাদের অভিযোগ, ভিড় কম থাকলেও মাল পাচ্ছেন না তারা।সকাল সাড়ে নয়টায় খুলনা নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের পাশে টিসিবির পণ্য বিক্রয় শুরু করে একটি ভ্রাম্যমাণ ট্রাক। অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকে ক্রেতার সংখ্যা ছিলো অনেক কম। ট্রাকের ডিলার মোঃ ফজলুর রহমান জানান, লকডাউনের কারণে ক্রেতার উপস্থিতি কম।তবে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকলেও দুপুর একটার মধ্যেই আশ্চর্যজনক ভাবে সব পণ্য বিক্রি শেষ হয়ে যায় ট্রাকটির!গ্লাক্সোর মোড়ের বাসিন্দা তওহীদ অভিযোগ করে বলেন, সকাল বেলায় দেখলাম কলেজিয়েটের সামনে টিসিবির মাল দিচ্ছে। ভাবলাম জোহরের নামাজের আগে গিয়ে তেল কিনবো, কিন্তু জোহরের নামাজের একটু আগে গিয়ে দেখি টিসিবির মাল শেষ, গাড়ি সেখানে নেই।একই ঘটনা ঘটেছে সোনাডাঙ্গা গল্লামারী মেইন রোডের সবুজবাগ মসজিদের পাশের টিসিবির পণ্য বিক্রয় করা ট্রাকটিতে।এস এম এন্টারপ্রাইজ এর ট্রাকটি সবুজবাগ মসজিদ এলাকায় সকাল সাড়ে নয়টায় পণ্য বিক্রি শুরু করে। ক্রেতাদের উপস্থিত ছিলো কম। প্রত্যেক ক্রেতাকে সর্বোচ্চ চার লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, দুই কেজি চিনি, দুই কেজি ছোলা ও দুই কেজি খেজুর দেওয়া হচ্ছে। অল্প সংখ্যক ক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত পরিমাণে পণ্য বিক্রয় করলেও দুপুর একটা বাজতেই মাল শেষ হয়ে যায় ট্রাকটির।ঐ ট্রাকের পিছনে সিরিয়ালে দাড়িয়ে থাকা একজন ক্রেতা বলেন, শুধু দুই লিটার তেল ছাড়া আর কিছুই কিনতে পারেননি তিনি।তবে কয়েকজন ট্রাকের ডিলারের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য সময়ের চেয়ে রমজান মাস উপলক্ষে বেশি পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে তাদের। বর্তমানে প্রতি ট্রাকে চিনি সরবরাহ করা হচ্ছে সাতশো কেজি, ডাল তিনশো কেজি, ছোলা চারশো কেজি, খেজুর ৫০ কেজি ও তেল ১২শো লিটার।রমজান মাস উপলক্ষে পণ্য বেশি সরবরাহ থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী মাল না পাওয়ায় অনেক ক্রেতা ধারণা করছেন, তেল বাদে অন্য পণ্য বাইরের বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।টিসিবির পণ্য বিক্রয়কারী এক ট্রাকের সদস্যের সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তেল বাদে অন্যান্য পণ্য যেহেতু চেনার কোনো উপায় নেই তাই অনেক ডিলার টিসিবির ডাল, চিনি, ছোলা, খেজুর বেশি দামে বাইরে বাজারে বিক্রি করে।এ বিষয়ে টিসিবির অফিস প্রধান মোঃ আনিসুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। তবে যদি কোনো ডিলার টিসিবির পণ্য বাইরে বাজারে বিক্রির সাথে জড়িত থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।