‘হেফাজতের সব তাণ্ডবে বিএনপি জড়িত’

6

 

রাজনৈতিক ডেস্ক: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের সব ঘটনায় বিএনপি জড়িত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক দানবের প্রকাশ্য পৃষ্ঠপোষক।’শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত অসহায়-কর্মহীন মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে: হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ত- বিএনপি’র এমন অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘তাদের এমন কথায় মানুষ হাসে। নিজেদের আড়াল করার জন্য যত কথাই তারা বলুক জনগণ তাদের বিশ্বাস করে না।’হেফাজতের সবাই জ্বালাও-পোড়াও সন্ত্রাসে জড়িত এটা আওয়ামী লীগ মনে করে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হেফাজতের কিছু কিছু নেতা এরইমধ্যে বলেছেন, তারা এই সন্ত্রাসী তাণ্ডবে বিশ্বাস করেন না। হেফাজতের মধ্যে যারা এই আগুন সহিংসতায় অংশ নিয়েছে তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটা প্রমাণ হয়েছে, চট্টগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা সোনারগাঁর সব তাণ্ডবে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত। অপরাধকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে কোনও দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করার কোনও বিষয় নেই।’

সরকার নাকি দেশকে নরকপুরিতে পরিণত করেছে, বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সরকার নয়, জনগণ মনে করে বিএনপি’র উসকানিতে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ২৬ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে নরকপুরি বানিয়েছিল। হেফাজত ইস্যুতে বিএনপি যতই কৌশলি অবস্থান গ্রহণ করুক না কেন, থলের বিড়াল বের হতে শুরু করেছে।’  জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতে বিএনপিই বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণের সহায়তায় সরকার সাম্প্রদায়িক দানবীয় অপশক্তিকে মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।’

দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে: আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এখন দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। প্রথমটি হচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে জীবিকার জন্য খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’তিনি বলেন, ‘চলমান করোনা সংকটে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সারাদেশের অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জনপ্রতিনিধি ও দলের নেতাকর্মীরা শুধু সুরক্ষা সামগ্রী নয়, নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা নিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

লকডাউনের কারণে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, সেই সব অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল, ভাসমান মানুষদের সহায়তা করার জন্য দলের নেতাকর্মী ও সমাজের সামর্থবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘করোনাকে পরাজিত না করা পর্যন্ত দুস্থ, অসহায়দের মাঝে নগদ অর্থ এবং খাদ্য সামগ্রী বিতরণ চলমান রাখতে হবে।’তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের করোনা মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ সেবা দিতে হবে। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলের কর্মী হিসেবে নয়, দেশের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে।’কাদের আক্ষেপ করে বলেন, হাটে-বাজারে মাঠে ঘাটে, ফেরি ঘাটে সর্বত্র মাস্ক পরায় একটি অনাগ্রহ দেখা যায়। অনেকে নামকাওয়াস্তে মাস্ক পরে নাক মুখ না দেখে থুতনির নিচে রেখে দেয়।তিনি করোনা ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করতে সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।