কলারোয়া দক্ষিন মুরারিকাটি তারক নন্দী ব্রিজ ২০ গ্রামের আতংক,

16

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌর সদরের যুগিবাড়ি বাজার সংলগ্ন বেতনা নদীর উপর ৭০
বছর আগে নির্মিত জনগুরুত্বপুর্ন ‘মুরারিকাটি তারক নন্দী কাঠের ব্রিজটি’ দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে ঘটছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, চরম দুর্ভোগে পড়েছে ২০ গ্রামের মানুষ। যদিও জেলা ও উপজেলা সদরের সাথে দ্রæত যোগাযোগ এবং যুগিবাড়ি, কলারোয়া পৌর সদরের বাজার ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা বাজারে বানিজ্যিক সুবিধাসহ বিভিন্ন কারনে প্রতিদিন দক্ষিণ মুরারিকাটি, গোপিনাথপুর, পাথরঘাটা, ঘর চালা, কাশিয়াডাঙা, কুমারনল, জেলেপাড়া, পালপাড়া, কর্মকার পাড়াসহ আশপাশের ২০টি গ্রামের শিশু, নারী, বৃদ্ধসহ প্রায় দশ হাজার মানুষ ঝুকি নিয়ে এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করছে। এদিকে কলারোয়া পৌরসভার মেয়রের দাবি, বর্তমানে লকডাউন থাকায় এবং ব্রিজের পাটাতন নির্মানের জন্য বাবলা গাছের কাঠ না পাওয়ায় কাঠের ব্রিজটি সংস্কারে দেরি হচ্ছে। তবে, কাঠ পেলেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মানুষের নিরাপদ চলাচল ও বানিজ্যিক কারনে বেতনা নদীর উপর নির্মিত কাঠের ব্রিজটির পরিবর্তে নতুন পাকা ব্রিজ নির্মানের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ এলাকার মানুষ। তাঁরা আরো জানান, এরআগে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে দৈনিক আমাদের সময়
পত্রিকায় ও যমুন টেলিভিশনে জরাজীর্ণ মুরারিকাটি তারক নন্দী কাঠের ব্রিজ
নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিন পর কলারোয়া পৌর কতৃপক্ষ কাঠের
নতুন পাটাতন লাগিয়ে ব্রিজটি সংস্কার করে। যদিও কয়েক মাস পর ব্রিজটির
পাটাতন ভেঙ্গে পুনরায় ঝুকিপুর্ণ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে এলাকাবাসী কলারোয়া পৌর কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করলেও বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে আজ পর্যন্ত ব্রিজটি সংস্কার করেনি।শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে সরজমিনে দেখাগেছে, চরম ঝুকি নিয়ে জরাজীর্ন এই
কাঠের ব্রিজ দিয়ে শিশু, বৃদ্ধ নারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন
শ্রেণী পেশার মানুষ উপজেলা ও পৌর সদরে যাতায়াত করছে। কাঠের ব্রিজটির
অধিকাংশ স্থানই ভাঙাচোরা। কাঠের পাটাতন নেই বললেই চলে। কিছু পাটাতন
ভেঙ্গে নদীর মধ্যে পড়েগেছে। লোহার কাঠামোর অবস্থাও করুন, ভেঙ্গে পড়তে
পারে যে কোন মুহুর্তে। তারপরও ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে এসব মানুষেরা।
মুরারিকাটি গ্রামের তারক নন্দী পরিবারের সদস্য আনন্দ নন্দী জানান, প্রায়
৭০ বছর আগে মুরারিকাটি গ্রামের জমিদার তারক নন্দী এলাকার উন্নয়নে তারক
নন্দী প্রাথমিক বিদ্যালয় (বর্তমানে দক্ষিন মুরারিকাটি সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়) ও বেতনা নদীর উপর লোহার ফ্রেম ও কাঠের পাটাতন দিয়ে তারক নন্দী
ব্রিজটি (বর্তমানে দক্ষিন মুরারিকাটি ব্রিজ) নির্মান করেন। তিনি আরো
বলেন, ১৯৫৬ সালে ব্রিজটি ভেঙে গেলে যাতায়াতে দুর্ভোগে পড়েন এ অঞ্চলের
হাজার হাজার মানুষ। পরবর্তীতে এলাকাবাসী কাঠ দিয়ে ব্রিজটি মেরামত করে
কোনোরকমে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে। পরর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর উক্ত
কাঠের ব্রিজটি পাকা করনের জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধিসহ জেলা
প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও আজো কতৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন
করেননি। তবে, এলাকাবাসী চলাচলের জন্য একাধিকবার নিজেদের উদ্যেগে ব্রিজটি
সংস্কার করেছেন। এছাড়া কলারোয়া পৌরসভা গঠনের পর ঝুকিপুর্ন কাঠের ব্রিজটির
কয়েকটি স্থানে পাটাতন সংস্কার করা হলেও তা বেশী দিন স্থায়ী হয়নি। সর্বশেষ
২০১৯ সালে পৌরসভার পক্ষ থেকে ব্রিজটি সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে
জনগুরুত্বপুর্ন এই ব্রিজটি চরম ঝুঁকিপ‚র্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে কাঠের
পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে। এছাড়া লোহার কাঠামোগুলোতেও মরিচা পড়ে অংশ
বিশেষ খসে পড়েছে। দ্রæত সংস্কার না করা হলে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে
প্রানহানী ঘটতে পারে।

দক্ষিন মুরারীকাটি এতিম খানার সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আনোয়ার হোসেন
বলেন, মুরারিকাটি তারক নন্দী ব্রিজটি সাতক্ষীরা জেলা সদর ও কলারোয়া
উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন
স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থানে যোগদান,
ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে, চিকিৎসাসেবা গ্রহনসহ বিভিন্ন কারনে জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
তবে এ বিষয়ে কলারোয়া পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
পথচারী অর্চণা পাল বলেন, ব্রিজটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
হাঁটতে গেলে ব্রিজের ভাঙা পাটাতনের কাঠগুলো হাত দিয়ে কোনোরকম বসিয়ে দিয়ে
তারপর পার হতে হয়। ৪/৫ দিন আগে পাটাতনের ভাঙ্গা কাঠ সরে যাওয়ায় ছোট এক
শিশু নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে জানিয়ে তিনি
জানান, এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখানে কাঠের পরিবর্তে একটি টেকসই
পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন।

গোপিনাথপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সুমন কুমার ঘোষ, জয়দেব, মন্টু শেখ,
আব্দুর গনিসহ অনেকে জানান, বেতনা নদীর উপর নির্মিত পোপিনাথপুর-দক্ষিন
মুরারিকাটি তারক নন্দী ব্রিজটি এখন এলাকার মানুষের কাছে আতংকের নামে
পরিনত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, কলারোয়া পৌরসদর থেকে আমাদের পণ্য কিনে
আনতে হয়। আর এই ব্রিজ দিয়ে পণ্য পরিবহনে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার
শিকার হয়ে অঙ্গহানির ঘটনা ঘটছে। বর্তমানে দুর্ঘটনার ভয়ে সন্ধ্যাঁর পর
থেকে ব্রিজ দিয়ে এলাকার মানুষ যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। যারফলে তারাও
পন্য বিক্রিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
অবিলম্বে কাঠের ব্রিজটির পরিবর্তে উক্ত স্থানে নতুন পাকা ব্রিজ নির্মানের
জন্য সংশ্লিষ্ঠ উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে কলারোয়া পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, পৌরসভার দক্ষিন
মুরারীকাঠি তারক নন্দী কাঠের ব্রিজটি দীর্ঘ কয়েক যুগ আগে নির্মিত। অধিক
মানুষের যাতায়াতের কারনে ব্রিজটি প্রতি বছরই সংস্কারের প্রয়োজন হয়।
বর্তমানে লকডাউন থাকায় এবং বাবলা গাছের

এ বিষয়ে কলারোয়া পৌরসভার মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, পৌরসভার দক্ষিন
মুরারীকাঠি তারক নন্দী কাঠের ব্রিজটি দীর্ঘ কয়েক যুগ আগে নির্মিত। অধিক
মানুষের যাতায়াতের কারনে ব্রিজটি প্রতি বছরই সংস্কারের প্রয়োজন হয়।
বর্তমানে লকডাউন থাকায় এবং বাবলা গাছের কাঠ না পাওয়ায় সংস্কারে দেরি
হচ্ছে। কাঠ পেলেই দ্রত ব্রিজটি সংস্কার করা হবে। পৌর মেয়র আরো বলেন, ২০১৯
সালের ৪ ডিসেম্বর জনদুর্ভোগ লাঘবে এখানে কাঠের ব্রিজের পরিবর্তে ১৫০
মিটার টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে
প্রস্তাব পাঠনো হয়েছে। কিন্তু অধিদপ্তর থেকে এখনও কোন প্রতিউত্তর আসেনি।