যশোরে করোনা আক্রান্ত ৬ হাজার ১২২, মৃত্যু ৬৮ জন

2

যশোর প্রতিনিধি: যশোর জেলায় শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) আরো অর্ধশত করোনা রোগী বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী, এখন জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তব্যক্তির সংখ্যা ছয় হাজার ১২২ জন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাতে যে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়, তারমধ্যে যশোরের ৫০টিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এদিন জেলার ২২৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষণ দলের সদস্য অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদ এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, এদিন তাদের ল্যাবে মোট ২৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। যেগুলো যশোর ও মাগুরা জেলার সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের শরীর থেকে সংগ্রহ করা। মাগুরার ২৫টি নমুনা পরীক্ষা করে এদিন পাঁচটিতে করোনা শনাক্ত হয়। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট দুই জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত যশোর জেলায় মোট ছয় হাজার ৭২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। শুক্রবার এর সঙ্গে যোগ হবে আরো ৫০ জন। এ হিসেবে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো ৬ হাজার ১২২ জনে।এদিকে, যশোর জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মাধ্যমেও প্রাথমিকভাবে কিছু করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়। অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট অবশ্য নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট নমুনা পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়।

সিভিল সার্জনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যশোর জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৮ জন। অবশ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান ও দেশের বাইরে, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যশোরের বেশ কয়েকজন নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যাদের হিসেব এ তালিকায় নেই।স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, যশোরে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ইতিমধ্যে পাঁচ হাজার ২০০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৬ জন। আর বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন ৭৭৮ জন।

গত বছর ৫ ডিসেম্বর যশোরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু হয়। তখন থেকে গেল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ জেলায় মোট এক হাজার ৩৭৮ ব্যক্তির নমুনা অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৪টি পজিটিভ হয়েছে।করোনাভাইরাসের এই বিপজ্জনক সময়ে মানুষকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা, ঘরে থাকা, বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে বেরহলে মাস্ক ব্যবহার করতে বলছেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন।