তরমুজের কেজি ৫০ টাকা, বেড়েছে অন্য ফলের দামও

3

লিংক বিডি ২৪ ডেস্ক: ইফতারিতে দেশী বিদেশী ফলের ব্যবহার করেন রোজাদাররা। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে রমজানে স্বাভাবিকভাবেই ফলের চাহিদা বেশি থাকায় দামও একটু বেশি থাকে। কিন্তু তা এবার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।খুলনা নগরীর প্রধান সড়কের ফুটপাতগুলোত বসেছে দেশী বিদেশী ফলের দোকান। এসব ফলের দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড় দেখা গেছে। এবছর রমজানের শুরু থেকেই এসব দোকানে দেশী বিদেশী ফলের দাম বেশ চড়া। বর্তমানে মৌসুমী ফল তরমুজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, যা রোজার আগে বিক্রি হয়েছে ২৫/৩০ টাকায়।

তরমুজের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে খুলনা কাঁচা ও পাকা ফল দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হায়দার পাটোয়ারী খুলনা গেজেটকে বলেন, বৃষ্টি না হওয়ার কারণে তরমুজ ক্ষেতে ব্যাপক ভাইরাস লেগেছে। তাই এ বছর তরমুজের ফলন খুব একটা ভালো না। তাছাড়া এ পণ্য বাজারে এনে গাড়ি ভাড়া উঠানো দায় হয়ে পড়েছে। খুলনা অঞ্চল থেকে দেশের সর্বত্র তরমুজ সরবরাহ করা হয়। এটাও তরমুজের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে তিনি জানিয়েছেন।

তরমুজ চাষী তপন সরদার দাকোপের বটবুনিয়া থেকে তরমুজ বিক্রি করতে খুলনায় এসেছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, “অনাবৃষ্টির কারণে এবার তরমুজের ফলন তেমন একটা হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ভাইরাস ও পোকায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এ ফলটি।”দাম বৃদ্ধির তালিকায় যোগ হয়েছে মাল্টাও। গত দু’সপ্তাহ পূর্বে এটি ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ভালো মানের মাল্টা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা।নগরীর ডাকবাংলা মোড়ের দোকানী আল আমিন বলেন, রোজার সময় ফলের চাহিদা একটু বেশী থাকার কারণে মাল্টার দাম স্বাভাবিক সময়ের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শরবত তৈরীর উপকরণ বেল। থেমে নেই এই ফলটির দামও। বর্তমানে একটি ভাল বেলের দাম ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে যা ১’শ টাকায় পাওয়া যেত। মাঝারি ও ছোট আকারের প্রত্যেকটি বেল ৫০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে, ছোট আনারস ৫০ টাকার নিচে মিলছে না। যা রোজার পূর্বে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিক্রেতা রহিম জানান, লকডাউনের কারণে মালের আমদানি খুব কম। তাছাড়া রমজানে রসালো ফলের চাহিদা বেশী থাকার কারণে দাম বেশী। বাজারে নতুন মৌসুমী ফল জামরুল ও কাঠালের দেখা মিলেছে। প্রতি কেজি জামরুলের দাম একশত টাকা ও কাঠালের দাম নির্ভর করছে এর আকারের ওপর।

মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে আপেল, আঙ্গুর ও কলাও। বাজারে আপেল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, আঙ্গুর ৩০০ টাকা এবং কলা ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।বিদেশী এসকল ফলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বড় বাজারের পাইকারি ফল বিক্রেতা আব্দুল আজিজ জানান, বেনাপোল ও ভোমরা বন্দর থেকে আঙ্গুর এবং আনার আসছে না। মাল্টা ও আপেল চট্টগ্রাম থেকে আসছে না। তাছাড়া লকডাউনের কারণে এ সকল পণ্যে আমদানি কমে গেছে। ফলে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে।