করোনায় মৃতদের কবরের জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না দিল্লিতে

1

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতজুড়ে ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। দেশটিতে সংক্রমণের শীর্ষে রাজধানী দিল্লি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ১৪৯ জন। মঙ্গলবার এই সংখ্যা নেমেছিল ২০ হাজারে। দিল্লিতে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুও বেড়েছে সে রাজ্যে। বুধবার গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮১ জনের, যা করোনাপর্বে সর্বোচ্চ। এদিকে শবদাহের জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অসংখ্য অস্থায়ী চিতা বসানো হচ্ছে। রাজ্যটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। শহরের পৌর সংস্থা ও সাতটি শ্মশানে ঘুরে দিল্লিভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এনডিটিভি জানায়, করোনায় সরকারি মৃত্যুর হিসাবে অন্তত এক হাজার ১৫০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। দিল্লি পৌরসভা পরিচালিত ২৬টি শ্মশান থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে তিন হাজার ৯৬ জন করোনা রোগীর মরদেহ এসব শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইনসাইডার ডট কম জানাচ্ছে দিল্লির এই করোনা পরিস্থিতি চিন্তার কারণ হয়েছে রাজধানীর সবথেকে বড় কবরস্থানের। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, যেখানে করোনায় মৃ্ত্যু হলেও শেষকৃত্য নিয়ে ভাবতে হচ্ছে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের।

দিল্লিতে অন্যতম বড় কবরস্থান জাদিদ আহলে ইসলাম ক্রিমেটরি। বহু বছর ধরে মুসলিম সমাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই নাম। এবার সেই কবরস্থানেই পাওয়া যাচ্ছে না দাফনের জায়গা। কবরস্থানের কেয়ারটেকার মহম্মদ শামিম বলেন, কোথায় ৭ থেকে ৮ জনকে কবর দেয়া আর কোথায় ৩০ থেকে ৪০ জনকে কবর দেয়া। আমি ৩৫ বছর ধরে এখানে আছি এত মৃতদেহ কখনো দেখিনি। আমার বাবা আছে এখানে উনিও এত মৃতদেহ কখনো দেখেননি। আসলেই খুব খারাপ অবস্থা। করোনার আসার আগে আমাদের কাজ করতে কোন কষ্ট হতো না। এটা স্বাভাবিক কাজ ছিল। কখনো কখনো কোন সালে ডবল কাজ করতে হতো। আর এখন ডবল ট্রিপল না রাতদিন খাটতে হচ্ছে। আর কবর খুঁড়তে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি কখনোই কল্পনা করিনি এমন দিন আমাকে দেখতে হবে যে দিনে ৪০টি লাশ দাফন করতে হবে। করোনায় মৃতদের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ ছিল তা পূর্ণ হয়ে গেছে। এখন কবরস্থানের কমিটির সঙ্গে কথা বলে নতুন জায়গার কথা ভাবতে হবে আমাদের। গত ৪ এপ্রিল থেকে কবরস্থানে কোভিডে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দিল্লিতে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে রয়েছে এই কবরস্থান। বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ থেকে শুরু হয়েছে এই জমি। ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামের কছে রিং রোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে রয়েছে এই কবরস্থান। রাজধানীর সবচেয়ে পুরনো এই কবরস্থানে গত বছরই করোনা পরিস্থিতির সময় কোভিডে মৃতদের জন্য কবরস্থানে আলাদা জায়গা করা হয়।